পোলিশ ফ্যাশন রিটেইলার এলপিপির রাশিয়ায় সাবেক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বকেয়া পাওনা নিয়ে বিরোধে এলপিপির অবস্থানকে সমর্থন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি বলেছে, বকেয়া পাওনার দাবি আইনিভাবে দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধেই তোলা উচিত।
এক যৌথ বিবৃতিতে বিজিএমইএ ও এলপিপি জানিয়েছে, বিতর্কিত দাবির ক্ষেত্রে এলপিপি কোনো দেনাদার নয় এবং এসব পাওনা পরিশোধের জন্য আইনগতভাবে দায়বদ্ধও নয়। একই সঙ্গে এলপিপি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের সরাসরি সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ দায়দায়িত্ব অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ অব্যাহত রয়েছে।
রাশিয়াভিত্তিক এফইএস রিটেইলের জন্য তৈরি পোশাক সরবরাহ বাবদ বাংলাদেশি পোশাক প্রস্তুতকারক ও বায়িং হাউসগুলোর প্রায় ৪ কোটি ডলারের দাবিকে কেন্দ্র করেই মূল বিরোধ। সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, এসব পণ্যের বিপরীতে তাদের পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
তবে এলপিপি এসব দাবির দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, দাবিগুলোর ক্ষেত্রে তারা দেনাদার নয়। বাংলাদেশে সরাসরি সরবরাহকারীদের সঙ্গে তাদের নিজস্ব চুক্তিবদ্ধ দায়দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জুলাইয়ের শেষ দিকে বিরোধটি নতুন মাত্রা পায়। ওই সময় বাংলাদেশ থেকে নতুন পণ্য অর্ডার ও পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত করে এলপিপি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সোর্সিং কৌশল পর্যালোচনা শুরু করে।
এলপিপি-এর এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রেতা হিসেবে বাংলাদেশে এলপিপির উল্লেখযোগ্য ব্যবসা রয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি আগে বাংলাদেশ থেকে বছরে ৭০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক সংগ্রহ করত।
সর্বশেষ যৌথ বিবৃতিতে অবশ্য চলমান পাওনা বিরোধকে বাংলাদেশের সঙ্গে এলপিপির সামগ্রিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক থেকে আলাদা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এলপিপি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের কিছু সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের জন্য আইনগত নিশ্চয়তা ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা। এই পর্যালোচনা বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি এবং বাংলাদেশে সরাসরি চুক্তিবদ্ধ অংশীদারদের প্রতি এলপিপির দায়বদ্ধতাতেও কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বিজিএমইএ ও এলপিপি স্বীকার করেছে, বিরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। তবে তাদের মতে, বিতর্কিত দায় নিয়ে আলোচনা আইনগতভাবে দায়ী পক্ষগুলোর সঙ্গেই হওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে আইনগত অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে গঠনমূলক আলোচনায় সহযোগিতার কথাও জানিয়েছে এলপিপি।
এই বিরোধে সরাসরি জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের ৩৫০টির বেশি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলপিপির ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।
বিজিএমইএ ও এলপিপি বলেছে, সীমিতসংখ্যক তৃতীয় পক্ষের একটি বিরোধের কারণে অন্য প্রস্তুতকারক, শ্রমিক কিংবা বাংলাদেশের সঙ্গে এলপিপির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। এ কারণে বিরোধের সঙ্গে জড়িত নয় এমন প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ওপর অনিচ্ছাকৃত প্রভাব ফেলতে পারে—এমন বিভ্রান্তিকর বা অতিরঞ্জিত বিষয় এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তিতে তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করবে। একই সঙ্গে এলপিপির কর্মকর্তা ও কর্মীদের হয়রানি, চাপ কিংবা ভিত্তিহীন আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষার বিষয়টিও তারা দেখবে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনগতভাবে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ দাবি উত্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের অধিকার খর্ব হচ্ছে না। বিজিএমইএ ও এলপিপি স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নির্বিঘ্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে দুই পক্ষ।


