বাংলাদেশ রেলওয়ে পাঁচ বছর আগে যে মিটারগেজ ট্রেন ইঞ্জিন প্রতিটি ৩৮ কোটি টাকায় কিনেছিল, ঠিক একই ধরণের ইঞ্জিন এখন প্রতিটি ৬৯ কোটি টাকা দরে কেনার পরিকল্পনা করছে।
ইঞ্জিনের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ার পেছনে ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমে যাওয়া এবং পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ শাকিল উদ্দিন আহমেদ টাইমসকে বলেন, ‘আগে যখন এসব ইঞ্জিন কেনা হয়, তখন প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৪ টাকা। এখন সেটা বেড়ে ১২০ টাকার বেশি হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে সব জিনিসের দামও বেড়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এখন বেশি দাম দিয়ে ইঞ্জিন কিনতে হবে।’
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় ৪৩ শতাংশ।
পরিকল্পনা কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ৩০টি ইঞ্জিন কেনার এই প্রকল্পে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বাকি ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)।
একদিকে রেলওয়েতে তীব্র ইঞ্জিন সংকট, অন্যদিকে ঠিকমতো মেরামতের দক্ষতার অভাব—এই পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে আরও ৩০টি ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের চুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা খরচে ৩০টি ইঞ্জিন আনা হয়েছিল। কিন্তু চার বছর না যেতেই সেগুলোতে বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। চুক্তিতে দীর্ঘকাল সচল থাকার কথা থাকলেও, এখন অনেক ইঞ্জিনই নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইঞ্জিন মেরামত বা দেখাশোনার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পর্যাপ্ত দক্ষ লোকবল ও কারিগরি দক্ষতা নেই।
নতুন ৩০টি ইঞ্জিন কিনলে রেলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নে শাকিল উদ্দিন বলেন, ‘নতুন ইঞ্জিনগুলোর সঙ্গে তিন বছরের সার্ভিস চুক্তি থাকবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানই এই তিন বছর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে। আর এই সময়ের মধ্যে আমাদের কর্মীরাও কাজ শিখে দক্ষ হয়ে উঠবেন।’
১১৫টি মিটারগেজ ইঞ্জিনের মেয়াদ শেষ
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মোট ২৯২টি ইঞ্জিন আছে। এর মধ্যে ১৬৪টি মিটারগেজ ও ১২৮টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন। কিন্তু এর মধ্যে ১১৫টি মিটারগেজ ইঞ্জিনেরই ব্যবহারের মেয়াদ বা অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে।
রেল কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন ৩০টি ইঞ্জিন যুক্ত হলে মিটারগেজ লাইনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া সহজ হবে।
রেলওয়ের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে সব মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করার কথা। কিন্তু কাজের গতি মন্থর হওয়ায় ২০৫৫ থেকে ২০৬০ সাল পর্যন্ত মিটারগেজ ট্রেন চালিয়ে যেতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের উপ-প্রধান মো. নাজমুল হাসান টাইমসকে বলেন, ‘৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাবটি একনেক সভায় তোলা হবে। এটি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে ট্রেনের গতি বাড়বে, যাত্রী-পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং যাতায়াত খরচও কমবে।’
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাকিল উদ্দিন আরও জানান, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তত ১০০টি নতুন ইঞ্জিন দরকার।’


