চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধস নেমেছে। পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে মানবিক বিভাগে; এ বিভাগে পাস করেছে মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।
সোমবার সকাল ১০টায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। গত ২১ এপ্রিল এ বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। এতে ছাত্র পাশের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রী পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন।
গত বছর এ শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার প্রায় ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
এ বছর ১ হাজার ২১৮ বিদ্যালয়ের ২১৮ কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
মানবিকে সবচেয়ে খারাপ ফল
তিন বিভাগেই এবার পাসের হার কমেছে। তবে মানবিক বিভাগের ফল সবচেয়ে হতাশাজনক। এ বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
অর্থাৎ তিন বিভাগের মধ্যে মানবিক বিভাগেই সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে। এ বিভাগের ৬০ শতাংশের বেশি পরীক্ষার্থী এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
মেয়েরা এগিয়ে
ফলাফলের বিভিন্ন সূচকে এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। এ বছর ৭৪ হাজার ১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৭৫ জন।
অন্যদিকে ৫৬ হাজার ২১৮ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৯৩ জন।
অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে।
পার্বত্য জেলাগুলোতে ফল খারাপ
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে খাগড়াছড়িতে। সেখানে পাসের হার মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
রাঙামাটিতে পাসের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। কক্সবাজারে পাসের হার ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম জেলায় (মহানগরসহ) পাসের হার ৬৪ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এ হার আরও কম- ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
কমেছে শতভাগ পাসের স্কুল, বেড়েছে শূন্য পাস
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও এবার নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে ২১টিতে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। ২০২২ সালে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয় ছিল ৭১টি।
অন্যদিকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি- এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা এবার বেড়ে হয়েছে আটটি। গত বছর এমন বিদ্যালয় ছিল মাত্র একটি। এর আগের তিনবছর ছিল শূন্য।
এ বছর ১০ শতাংশ বা তার কম পাসের হার রয়েছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল একটি। ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পাসের হার রয়েছে- এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছর ১৫৩টি বিদ্যালয় এ শ্রেণিতে থাকলেও এবার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৩৮টি।
এক বিষয়ে ফেল ২৮ হাজারের বেশি
এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২ হাজার ৭৫৬ জন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৭৭১ জন মাত্র একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে ফেল করেছে।
এ বছর বহিষ্কার হয়েছে ১০ জন, যা গত বছরে ছিল একজন। ২০২৪ সালে শূন্য, ২০২৩ সালে ১০ জন ও ২০২২ সালে ছিল ৫ জন।
পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ
প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে এ আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।


