চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহে রোববার সকালে জঙ্গল সলিমপুরে গেলে কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা দুর্বৃত্তরা অতর্কিতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা বেধড়ক মারধর করে ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। হামলায় এখন টিভির ব্যুরো প্রধান হোসাইন জিয়া গুরুতর আহত হন, তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। আহত হন ক্যামেরাপারসন মো. পারভেজ রহমান। হামলাকারীরা ক্যামেরা ভাঙচুর করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
হামলার পর স্থানীয়রা আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এই হামলার নেতৃত্ব দেন শুক্কুর নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। তবে হামলার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো অভিযানে যায়নি বা কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছিনতাই হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে পরিণতি ভালো হবে না।’
তবে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘তাদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালাচ্ছি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হামলার প্রধান অভিযুক্ত শুক্কুরকে এখন টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদনে চিহ্নিত করা হলেও এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো তেমন কোনো তথ্য নেই। পুলিশ এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেনি।’
টেলিভিশনটির স্টাফ রিপোর্টার কাজী মাহফুজ জানিয়েছেন, শিগগিরই লিখিত অভিযোগ দেবেন তারা।
হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ছিনতাই হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধারে পদক্ষেপ এবং মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা।


