জাকসুর নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার রাতে কলাভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি।
জাকসু নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘আমি দিনরাত না ঘুমিয়ে আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি। ব্যর্থতার দায় নিয়ে আমি পদত্যাগ করছি।’
‘শেষ পর্যন্ত এই ব্যর্থতার দায়ভার আমি আর নিতে পারছি না। আমাকে চাপ দেওয়া হয়েছে পদত্যাগ না করার জন্য। মারাত্মক কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায়,’ যোগ করেন তিনি।
অধ্যাপক মাফরুহী আরো বলেন, ‘নির্বাচনে অনেক রকম অনিয়ম আছে। কিন্তু আমি আমার পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব স্পষ্ট থাকার চেষ্টা করেছি, ব্যালট পেপার এইভাবে ম্যানুয়ালি (সনাতন পদ্ধতিতে) ভোট প্রদান করার পক্ষপাতী আমি ছিলাম না।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন, প্রার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে আমি দেখেছি। এসব আমি মনে করি, একজন নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে আমারও দায়ভার আছে। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন রকম অব্যবস্থাপনা এবং ভোট গণনার বিলম্ব হওয়ার কারণে আজকে আমাদের মাঝে একজন শিক্ষক নেই। এটি একটি অপূরণীয় ক্ষতি। আমি দায়ভার নিতে পারছি না, সেজন্য আমি এখন পদত্যাগ করলাম।’
এবার জাকসুর নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। কমিশনের হিসাবে প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়েছিল। এ দিন ভোট গ্রহণ সকাল ৯টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে।
ছাত্রদল ছাড়াও চারটি প্যানেল ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘ভোট কারচুপির’ অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। তবে ছাত্রশিবির বলছে, ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে নির্বাচন ‘সুষ্ঠু হয়েছে’। তারাও ৬৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে মনে করছে।


