চট্টগ্রামে এএসআই আমিনের মৃত্যু: দাম্পত্য কলহের জেরে ‘আত্মহত্যা’

চট্টগ্রামে এএসআই আমিনের মৃত্যু: দাম্পত্য কলহের জেরে ‘আত্মহত্যা’
আমিনুল ইসলাম। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আবাসিক হোটেল থেকে রাঙামাটি জেলা পুলিশ লাইন্সের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলামের (৩২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দাম্পত্য কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে।

প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মঙ্গলবার বিকালে রাঙামাটি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমিনুল ইসলাম ছুটিতে ছিলেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত এবং তার স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ বা দাম্পত্য কলহ জড়িত থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা। তবে বিষয়টি তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।’

এর আগে, সোমবার বেলা ১১টার দিকে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজার এলাকার ‘রিলাক্স জোন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই কক্ষে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৭) রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। তাদের দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশুটিও ওই কক্ষে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম রাঙামাটি জেলা পুলিশের সশস্ত্র শাখায় এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত রোববার এক সপ্তাহ বা ১০ দিনের ছুটিতে তিনি নিজ এলাকায় গিয়েছিলেন। ছুটির একপর্যায়ে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। পরে তারা মিরসরাই সদরের দিকে এসে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন।

তাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক বিরোধ চলছিল কি না, সে বিষয়ে রাঙামাটি জেলা পুলিশ আগে থেকে কিছু জানত না বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, আমিনুল ইসলাম কর্মস্থলে পরিবার নিয়ে থাকতেন না। তার পরিবারের পক্ষ থেকেও আগে কখনো পুলিশের কাছে পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করা হয়নি। ফলে তাদের মধ্যে কোনো দাম্পত্য কলহ চলছিল কি না, তা পুলিশের জানা ছিল না।

পুলিশের এই কর্মকর্তা ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্ত্রী রক্তাক্ত, শিশুটি অক্ষত

ঘটনার পর আমিনুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাদের দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশুটি ওই সময় একই কক্ষে ছিল এবং অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটির সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আমিনুলের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তার স্ত্রী কীভাবে আহত হলেন এবং ঘটনার সময় কক্ষে আর কেউ ছিলেন কি না–এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

মিরসরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, আমিনুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।।

এখনো মামলা হয়নি

মিরসরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। রাঙামাটি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি যেহেতু মিরসরাই থানা এলাকায় ঘটেছে, সেখানেই নিয়মিত মামলা হবে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা আত্মহত্যার দিকে গেলেও ঘটনাটি নিয়ে কোনো সম্ভাবনাই এখনই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। মৃত্যুর কারণ, স্ত্রীর আহত হওয়ার ঘটনা এবং তাদের পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশে ১২ বছরের চাকরি

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আমিনুল ইসলাম ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে রাঙামাটি জেলা পুলিশ লাইন্সে বদলি করা হয়। সেখানে তিনি সশস্ত্র শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad