ভারত ও শ্রীলংকা মিলিয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শেষ পর্যন্ত আইসিসি যদি বিসিবির ভেন্যু বদলের অনুরোধ না রাখে, বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ খেলতে না যায়, ক্রিকেটাররাও পড়তে পারেন আর্থিক ক্ষতির মুখে। সেক্ষেত্রে বিসিবি কি তাদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেবে?
বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের মিডিয়া প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে, এই প্রশ্নের উত্তরে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম কথা বললেন রীতিমতো অন্য সুরে। বিস্ফোরক মন্তব্যে টেনে আনলেন বড় মঞ্চে বাংলাদেশের ব্যর্থতার গল্পকেও। যিনি কদিন আগে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন বিশ্বকাপ ইস্যুতে তার এক মন্তব্যের জেরে।
ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রশ্নে বিসিবির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অর্থ কমিটির এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘কেন? ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, খারাপ খেলে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করতছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে।’
বিশ্বকাপের ভেন্যু ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে দুই দফায় আইসিসির কাছে ইমেইল করেছে বিসিবি। এরপর মঙ্গলবার আইসিসির সাথে বিসিবির ভার্চুয়াল সভাতেও আসেনি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত। এতে করে আপাতত ঝুলেই গেছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য। শেষ পর্যন্ত আইসিসি যদি বিসিবির ভেন্যু বদলের অনুরোধ না রাখে, বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ খেলতে না যায়, সেক্ষেত্রে ক্রিকেটাররাও পড়তে পারেন আর্থিক ক্ষতির মুখে। কারণ এমন বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সাথে লভ্যাংশ ভাগাভাগি করে আইসিসি।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচের ভেন্যু ভারত থেকে না সরলে, শেষ অবধি হয়তো দলই পাঠাবে না বিসিবি। এমনটা হলে আদৌ কি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বোর্ড কিংবা ক্রিকেটাররা? নাজমুল জানালেন, বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও ক্রিকেটাররা হবেন। কারণ এতে আইসিসি থেকে পাওয়া ম্যাচ ফি, ম্যাচ সেরা ও বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড থেকে বঞ্চিত হবেন তারা।
বিসিবির এই পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো ক্ষতি হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে তার কারণ হচ্ছে যে, ক্রিকেটাররা খেললে প্রতিটা খেলায় তারা এক ধরনের ম্যাচ ফি পায়। খেলায় যদি কেউ পার্টিসিপেট করে, যদি ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয় অথবা কোনো ধরনের বিশেষ যদি তাদের কোনো পারফরমেন্স থাকে, সেটার জন্য আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের নিয়ম অনুযায়ী তারা যা পাওয়ার সেটা পাবে। ওটা হচ্ছে এক্সাক্টলি প্লেয়ারের পাওনা।’
এর সাথে বোর্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই জানিয়ে নাজমুল আরো বলেন, এটার সাথে বোর্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। মানে বোর্ডের এখানে লাভ বা ক্ষতি কোনো কিছু নাই। বাংলাদেশ এখানে খেলুক বা না খেলুক, এখানে বোর্ডের লাভ ক্ষতির কোনো বিষয় নাই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য।’
লভ্যাংশ ভাগাভাগির মডেল অনুযায়ী ২০২৩ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত আইসিসির সাথে চুক্তি আছে বিসিবি ও অন্যান্য বোর্ডের। সেই হিসেবে পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিলে বিসিবি কেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সেটার ব্যাখাও দিয়েছেন নাজমুল।
তিনি বলেন, ‘২০২৭ সাল পর্যন্ত আমাদের রেভিনিউতে কোনো কিছু হ্যাম্পার করবে না। কারণ হচ্ছে, ২০২২ সালের ২০২২ সালের যে আইসিসির ফাইনান্সিয়াল মিটিং হয়েছে, সেখানেই সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে।’


