আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম চার হাজার ডলার ( চার লাখ ৬০ হাজার টাকা) ছাড়িয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক সময় সকাল ৮টা ২০ মিনিটে প্রতি আউন্স ‘স্পট গোল্ডের’ দাম ধরা হয় ৪ হাজার ৩৯ দশমিক ১০ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসের জন্য ‘ফিউচার গোল্ডের’ দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬১ দশমিক ৮০ ডলার।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে রুপার ওপরও। একদিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪৮ দশমিক ৭৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরেছে প্লাটিনাম, প্যালাডিয়ামের মতো দামি ধাতুতেও।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ-সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক হার ও সুদের হার কমে যাওয়ার শঙ্কাই স্বর্ণবাজারে এই ঐতিহাসিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ।
মধ্যপ্রাচ্য চলমান সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ, ফ্রান্স ও জাপানের রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় শেয়ারবাজার, বিটকয়েন ও অপরিশোধিত তেলকে পেছনে ফেলে চলতি বছরের সবচেয়ে লাভজনক ‘বিনিয়োগ সম্পদে’ পরিণত হয়েছে এই সোনালি ধাতু।
সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ‘সরকার শাটডাউনও’ সোনার বাজারে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়িয়েছে। মূল্যবান ধাতু বিশেষজ্ঞ রোনা ও ‘কনেল বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে আটকে দিতে সরকারি শাটডাউন সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বর্ণকে বেছে নিচ্ছেন।’
বিশ্লেষণা সংস্থা উইজডম ট্রির কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট নিতেশ শাহ বলছেন, ২০২৬ সালের শেষার্ধের মধ্যে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি চার হাজার ৫৩০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম চার হাজার ডলারের ঘর এ বছরের শেষের দিকে ছোঁবে, কিন্তু এর আগেই সোনার দাম ইতিহাস গড়েছে।’


