ভারতের নয়াদিল্লির মালব্য নগরের একটি আবাসিক হোটেলে আগুনের ঘটনায় অন্তত আট বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তা করছে বাংলাদেশের হাইকমিশন। এরইমধ্যে আগুনে দগ্ধদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আটজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকেরাও আগুনে হতাহত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে ভারতীয় নয় নাগরিক নিহতের পাশাপাশি মোজাম্বিকের দুইজন, লাইবেরিয়ার একজন, নাইজেরিয়ার চারজন এবং উজবেকিস্তানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আগুনে মোট ২১ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
আহতদের মধ্যে ভারতের তিন, নেপাল, ক্যামেরুন, কেনিয়া ও কিরগিজস্তানের দুইজন করে, লাইবেরিয়ার তিনজন, নাইজেরিয়ার একজন এবং কাজাখস্তানের তিন নাগরিক রয়েছেন।
আহত আট বাংলাদেশিসহ সব মিলিয়ে এ ঘটনায় মোট ২৮ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে আগুনের ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকসহ ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও শোক জানিয়েছে বাংলাদেশের হাইকমিশন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পরপরই হাই কমিশন ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে কমিশনের কর্মকর্তারা।
তারা জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে আহত বাংলাদেশিদের দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছে। বাংলাদেশ হাই কমিশন সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার তদারকি করছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্যের লক্ষ্যে তাদের আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীদের আহত ব্যক্তিদের সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও ইনফেকশন প্রতিরোধের স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই জরুরি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশের হাইকমিশনও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে দিল্লির মালব্য নগরের ওই আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। পাঁচতলা ভবনটির বেজমেন্টে রেস্তোরাঁ থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছে ফায়ারসার্ভিস।
হোটেলটির ২৫টি কক্ষে তখন প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে অনেকে ভারতে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন এবং বেশিরভাগ অতিথিই সে সময় ঘুমিয়ে ছিলেন।


