বাফুফে ভবনের করিডোরে শনিবারে বাতাসটা ছিল বেশ গুমোট। জাতীয় দল কমিটির সভা শেষে যখন কমিটির সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন, সবার উৎসুক দৃষ্টি ছিল একটি প্রশ্নের ওপর, স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার ভবিষ্যৎ কী? চার বছরের দীর্ঘ অধ্যায় পার করলেও ডাগআউটে ক্যাবরেরার ঝুলি প্রায় শূন্য। আজ শনিবার জাতীয় দল কমিটির সভায় কোচ ইস্যুসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে ক্যাবরেরা অধ্যায় কি আজই আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত? উত্তরটা সরাসরি ‘হ্যাঁ’ না হলেও সভা শেষে বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। আমরা আজ থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে নামছি। আমরা বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও বিদেশের ক্লাবগুলোর সাথেও যোগাযোগ করব। যে কেউ আবেদন করতে পারবে, আমরা ইন্টারভিউ নেব।’ মজার ব্যাপার হলো, ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি থাকা ক্যাবরেরার জন্য দরজা এখনই বন্ধ করে দিচ্ছে না বাফুফে। বাবু বলেন, ‘প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাবরেরাও আবেদন করতে পারবে। সবার সাক্ষাৎকার নিয়ে যাকে আমাদের ভাল মনে হবে, তাকেই আমরা নিয়োগ দেব।’
টানা চার বছরের ব্যর্থতার পরও কেন ফের ক্যাবরেরাকেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, উপস্থিত সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েন বাবু। তিনি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন, ‘তাকে বাদ দিয়ে বা শুধু তাকে নিয়েই ভাবছি, বিষয়টা এমন নয়। আমরা আরো ভালো কোনো কোচ খোঁজার চেষ্টা করছি। তবে যেহেতু তার সঙ্গে চুক্তির এখনো এক মাস বাকি এবং এই সময়ে কোনো খেলা নেই, তাই সে চাইলে সাধারণ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারে। তবে তার পূর্বের কোনো ট্র্যাক রেকর্ড এখানে কাজে আসবে না। তাকে নতুন করেই ইন্টারভিউ পার হয়ে আসতে হবে। ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটি সব সিভি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
তবে বাফুফের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ফুটবলাঙ্গনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ক্যাবরেরা যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশের কোচ থাকতে মরিয়া। এর আগে চুক্তি নবায়নের সময় ফুটবলারদের মাধ্যমে বাফুফে কর্তাদের কাছে সুপারিশ করারও নজির রয়েছে তার। এখনো তিনি নানাভাবে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অন্য বিদেশি কোচদের চেয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে ক্যাবরেরার জানাশোনা বেশি, এই ‘অজুহাত’ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে তাকেই আবার রেখে দেওয়া হবে কি না, সেই সন্দেহ রয়েই যাচ্ছে ক্রীড়ামহলে।
এদিকে শুধু হেড কোচ নয়, জাতীয় দলের জন্য এবার একজন স্থায়ী গোলরক্ষক কোচও খুঁজছে বাফুফে। এ বিষয়ে বাবু বলেন, ‘আমরা হেড কোচের মতো গোলরক্ষক কোচও দুই বছর মেয়াদে নিয়োগ দিতে চাই। হেড কোচের মতো একই প্রক্রিয়ায় তাকেও বেছে নেওয়া হবে।’ সাধারণত হেড কোচ তার নিজের দেশ থেকে গোলরক্ষক কোচ নিয়ে আসেন, তবে এবার বাফুফে সেই প্রথা ভেঙে ভিন্ন পথে হাঁটে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আসছে জুনের প্রথম সপ্তাহে রয়েছে ফিফা উইন্ডো। এই উইন্ডোতে মালদ্বীপে একটি চার দেশীয় টুর্নামেন্টে খেলার প্রস্তাব রয়েছে কি না বাংলাদেশের সামনে প্রসঙ্গে বাবু সাফ সাফ জানিয়ে দেন এ নিয়ে কোন প্রস্তাবনা আসে নি বাফুফের কাছে। এ ছাড়া থাইল্যান্ডের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। যদি থাইল্যান্ড খেলতে রাজি না থাকে তবে মিয়ানমার বা অন্য দলের সাথে কথা আগাবে বাফুফে, আমিরুল ইসলাম বাবু এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছেন, ‘জুন উইন্ডোতে বাংলাদেশ দল খেলবে এটা শতভাগ নিশ্চিত।’ তবে ক্যাবরেরার চুক্তি শেষ হচ্ছে এপ্রিলে। নতুন কোচ এলে দল গোছাতে মাত্র এক মাস সময় পাবেন। বাফুফের নীতিনির্ধারকরা যদি বাজেটের মধ্যে মনের মতো কোচ না পান, তবে জুনের এই উইন্ডোতেও ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ হিসেবে ক্যাবরেরাকেই ডাগআউটে দেখা যেতে পারে, এমন ফিসফাসও শোনা যাচ্ছে।
কোচ ইস্যুর বাইরে আজকের সভায় আলোচিত হয়েছে গোলরক্ষক জিকোর প্রসঙ্গও। প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণার পরও মূল ক্যাম্পে জিকোকে না ডাকার বিষয়ে ক্যাবরেরার কঠোর সমালোচনা করেছেন কমিটির বেশ কিছু সদস্য। সব মিলিয়ে ক্যাবরেরার বিদায়ঘণ্টা বাজলেও, আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তির আগে নাটকের এখনো বেশ কিছু অঙ্ক বাকি।


