বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব। তরুণ নির্মাতাদের জন্য উৎসব কর্তৃপক্ষের নানান উদ্যোগের একটি কান রেসিডেন্সি বা কান আবাসিক। ৬০ দেশের ২৫০-রও বেশি চলচ্চিত্র নির্মাতাকে সহায়তা দিয়েছে কান আবাসিক—যাদের মধ্যে রয়েছেন লুক্রেসিয়া মার্তেল, নাদিন লাবাকি, লাসলো নেমেস এবং লুকাস দোঁর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিচালকরা। উদ্যোগটি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২৫ বছর পার করে শুরু করছে এর ৫০তম সেশন।
এবারের সেশনের শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর থেকে। চলবে আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অংশ নিচ্ছেন ছয় তরুণ নির্মাতা—আলিচা বেদনারিকোভা (স্লোভাকিয়া), ফেদেরিকো লুইস (আর্জেন্টিনা), মাকসিম নাকোনেচনি (ইউক্রেন), লাইস সান্তোস আরাউজো (ব্রাজিল), বারান সারমাদ (ইরান) এবং ডিয়ান ওয়েইস (দক্ষিণ আফ্রিকা)। ফ্র্যান্সের প্যারিসে সাড়ে চার মাসের এ যাত্রায় তারা নিজেদের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য উন্নয়নে কাজ করবেন, যেখানে থাকছে ব্যক্তিগত পরামর্শ ও অভিজ্ঞদের সঙ্গে দলীয় সেশন।
কান আবাসিক প্রতিষ্ঠার পর প্রথম পরিচালনা করতেন সিলভি পেরাস। এরপর জর্জ গোল্ডেনস্টার্নে। স্টেফানি লামোম বর্তমানে এটির পরিচালক। প্রতিবছর দুই দফায় প্রথম বা দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করা ১২ জন নির্মাতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলো অংশগ্রহণকারীরা সেলিন সিয়ামা, অ্যালিস রোহরওয়াখার, জাস্টিন ত্রিয়ে, আলবার্ট সেরা এবং সিনেমাটোগ্রাফার ক্লেয়ার মাটনের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে কান আবাসিকে থাকা ছবি ও নির্মাতাদের বেশ ভালো সফলতা দেখা গিয়েছে। এখানে তৈরি প্রকল্প থেকেই এসেছে কর্নেলিউ পোরুমবইউর ক্যামেরা দ’অর (২০০৬), আমাত এসকালান্তের শ্রেষ্ঠ পরিচালক পুরস্কার (২০১৩), মিশেল ফ্রাঙ্কোর শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য (২০১৫) এবং লাসলো নেমেসের কান গ্রাঁ প্রি ও অস্কার জয় (২০১৫–২০১৬)। সাম্প্রতিক সময়ে নাদিন লাবাকির ক্যাপারনাম (২০১৮), লুকাস দোঁর গার্ল (২০১৮), নাদাভ লাপিদের সিনোনিমস (২০১৯), কার্লা সিমনের আলকারাস (২০২২) এবং পায়াল কাপাডিয়ার অল উই ইমাজিইন অ্যাজ লাইট (২০২৪) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে।
‘দ্য মিস্টিরিয়াস গেইজ অব দ্য ফ্ল্যামিংগো’ এর জন্য চিলির নির্মাতা দিয়েগো সেসপেদেস জিতেছেন আঁ সার্তে রিগা। যেটি ২০১৯ সালের কান আবাসিকে ছিল।


