ধর্মঘট স্থগিত করায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বন্দরের স্বাভাবিক কাজ শুরু করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে সাতদিনের অচলাবস্থার অবসান হলো।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, সোমবার সকাল থেকে জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস, পণ্য ডেলিভারিসহ সব ধরনের কার্যক্রম ফের শুরু হয়েছে।
এর আগে রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান শ্রমিক ধর্মঘট ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ রোববার রাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
সংগঠনের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নির্বাচনকালীন জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বহাল রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে পুনরায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এক পর্যায়ে বন্দর শ্রমিকদের আন্দোলনে রূপ নেয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা, ঠিকাদারি প্রথা এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ চলছিল। এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন একত্রিত হয়ে ধর্মঘট কর্মসূচি পালন শুরু করে।


