মানুষের মতোই পাসপোর্ট, বিমানের টিকিট, সরকারি অনুমোদন, ভ্যাকসিন, বিশেষ খাঁচা, ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)’ এবং ট্রানজিট ক্লিয়ারেন্সসহ সব নিয়ম মেনে ইতালিতে উড়াল দিয়েছে একটি বিড়াল, তার নাম ‘ক্যান্ডি’।
মুন্সীগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকার রিক্তা বেগম ও আব্দুল হাই দম্পতির পরিবারের সদস্য ক্যান্ডি বুধবার রাত ৩টার দিকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে রোমের উদ্দেশে যাত্রা করে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ক্যান্ডিকেও নিয়ে যাওয়ার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা।
রিক্তা বেগম জানান, ‘ক্যান্ডি’ এখন আমাদের পরিবারের অংশ। আমরা বাইরে গেলে ও খাওয়া বন্ধ করে দেয়। তাই তাকে ফেলে যাওয়ার কথা ভাবতে পারিনি।
তার ছেলে স্বপ্নীল হাসান শিথিল বলেন, ক্যান্ডি আমাদের পরিবারের আনন্দের উৎস। ও ছাড়া ঘরটা ফাঁকা লাগে। তাই আমরা ওকেও সঙ্গে নিয়েছি।
আব্দুল হাই কয়েক মাস আগে দেশে এসে ‘ক্যান্ডি’র মায়ায় পড়ে যান। পরিবারের আবেগের কথা ভেবে তিনিও বিড়ালটিকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দেন। বিমানের নিয়ম অনুযায়ী ক্যান্ডিকে একটি বিশেষ খাঁচায় (পেট ক্যারিয়ার) করে হাতব্যাগের মতো বহন করা হয়। বিড়ালটির ওজন প্রায় ৬ কেজি। বিমানভাড়া ৩৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
বাকি টাকায় হয়েছে সরকারি অনুমতি, স্বাস্থ্য সনদ, মাইক্রোচিপ স্থাপন, এনওসি ও ট্রানজিট ক্লিয়ারেন্সের আনুষ্ঠানিকতা। ২০২১ সালে অনলাইনে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিল ‘ক্যান্ডি’কে। তখন শিথিল স্কুলে পড়ত। সেই ছোট বিড়ালছানাই এখন পুরো পরিবারের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু।
মুন্সীগঞ্জ টিটলার্ক পেটওয়েল সেন্টারের ভেটেরিনারি কনসালট্যান্ট শিবেন চন্দ্র লিটন বলেন, ‘বিদেশে পোষা প্রাণী নিতে হলে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী টিকা, স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট ও মাইক্রোচিপ বাধ্যতামূলক। ক্যান্ডির শরীরে মাইক্রোচিপ বসানো হয়েছে, যা স্ক্যান করলেই ইউনিক আইডি দেখা যায়।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল বলেন, ‘পরিবারটি বিড়ালটি বিদেশে নেওয়ার আগে আমাদের অবহিত করেছিল। তবে প্রাণী বিদেশে নিতে বিভাগকে জানানো বাধ্যতামূলক নয়। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জ থেকে এবারই প্রথম কোনো পোষা বিড়াল বিদেশে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।’


