আওয়ামী লীগের শাসনামলকে জার্মানির নাৎসি বাহিনী ও ইতালির মুসোলিনির সঙ্গে তুলনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, ‘তাদের ও তাদের অঙ্গসংঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা উচিত। তাদের যেখানে পাওয়া যাবে থানায় দিতে হবে, দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘গুম: ফ্যাসিবাদী শাসনের নিকৃষ্ট হাতিয়ার’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ইনস্টিটিউশনগুলোকে ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদবিরোধীদের গুম করেছে, খুন করেছে। ভবিষ্যতে এমন পুনরাবৃত্তি রোধ করতে যারা দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে অপকর্ম করেছেন তাদের বিচার করা দরকার।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন পুরো দেশকেই বন্দি করে রেখেছিল। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দিন শেষ হয়েছে, এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে।’ তিনি সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সেমিনারে উপস্থিত সাবেক ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহিল আমান আজমি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঠেকাতে বিচারবহির্ভূত মৃত্যুর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা জরুরি। অনেকে আমাকে জেনারেলদের বিরুদ্ধে মামলা না করার জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু আমি যদি কোনো গুম-খুনের বিরুদ্ধে কথা না বলি, তাহলে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।’ এই মামলা প্রতিহিংসার জন্য নয়, ভবিষ্যতের অনুগত জেনারেল তৈরির পথ বন্ধ করার জন্য বলে জানান তিনি।
লেখক মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) বলেন, ‘জনগণকে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। তিনি স্মরণ করেন, ‘গত আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে অনেক দায়িত্ব সামলায় এবং সে সময় থেকে নতুন আশা জাগে।’
সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত নিপীড়নের ইতিহাস উন্মোচন ও সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, বিচার নিশ্চিত না হলে সংবিধান ও মানুষের অধিকার রক্ষায় ঝুঁকি থেকে যাবে।


