কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ২৮ জন রোগী নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার এতথ্য পাওয়া গেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট হামের উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫১ জনে। সিভিল সার্জন কার্যালয় বলছে, ২৪ ঘণ্টায় যে ২৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের সবার হামের উপসর্গ রয়েছে।
একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২২ জন। এ রোগে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার হাম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-মোট উপসর্গ থাকা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫১ জনে। ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ জন। এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৫৪ জন। আর হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।
নতুন ভর্তি হওয়া ২৮ জনের মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন, কুমারখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলাতে হামের প্রাদুর্ভাবের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের মতো কুষ্টিয়ায় সোমবার থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। ক্যাম্পেইন চলবে ১১ মে পর্যন্ত। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা প্রদান করা হচ্ছে। জেলায় এই বয়সের মোট শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৯২৬ জন।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে জেলার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
চিকিৎসকরা শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ করে এই অঞ্চলে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে টিকাদানে অনীহা বা আবহাওয়া পরিবর্তন একটি বড় কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।


