দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ সেপ্টেম্বরে ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বিনিময় হারগুলোর মধ্যে ফারাক কমে যাওয়া এবং সন্ত্রাসবিরোধী অর্থ পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রমের শক্তিশালী প্রয়োগের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য থেকে এসব জানা যায়। এর আগে আগস্টে ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
এ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট রেমিট্যান্স ৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। এটা গত বছরের একই সময়ের ৬ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী শুরু হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অবস্থানও ধীরে ধীরে উন্নতি পেয়েছে। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ছিল। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে রিজার্ভের পরিমাণ ২৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আরও অনেক প্রবাসী এখন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। কঠোর তদারকি এবং উন্নত বিনিময় হার সমন্বয়ের কারণে এসব সম্ভব হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর মধ্যে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ ৬৯৯ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছে, পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ২৫৮ মিলিয়ন ডলার, জনতা ব্যাংক ১৭০ মিলিয়ন ডলার এবং ব্র্যাক ব্যাংক ১৬০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা আরও জানান, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও এখন বেশি রেমিট্যান্স পাচ্ছে। কারণ, অফিশিয়াল এবং অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মধ্যে প্রণোদনা ফারাক প্রায় নেই বললেই চলে।
২০২৪ সালের শেষের দিকে সরকারের হুন্ডি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান তীব্র করার পর এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের তদারকি শক্তিশালী হওয়ার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। এক বছরের মধ্যে ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার রেকর্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে এটা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
বৈশ্বিক ঝুঁকি এবং ধীর রপ্তানি বৃদ্ধির মাঝেও, নীতিনির্ধারকরা রেমিট্যান্সের এই লাভজনক প্রবাহকে দেশের অর্থনীতিতে আস্থার পুনর্গঠন এবং রিজার্ভ স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
এই সুযোগটি ব্যবহার করে আগামী বছরের আইএমএফের সংস্কারের সময়সীমার আগে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।


