কনফিডেন্স আয়োডিনযুক্ত ভ্যাকুয়াম লবণে আয়োডিন ও সালফেটের পরিমাণ নির্ধারিত মানের নিচে পাওয়া যাওয়ায় পণ্যটিকে ‘মানসম্পন্ন নয়’ এবং ‘অনিরাপদ’ ঘোষণা করা হয়েছে।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের মালিক সাদিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত–২ এর বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর।
মামলার বাদী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের অঞ্চল–২ ও ৬ এর প্রসিকিউটিং অফিসার এবং নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. কামরুল হাসান।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে খিলগাঁও থানাধীন ৩৫৪/১ তিলপাপাড়া এলাকার দুই বন্ধু স্টোরে সরেজমিন পরিদর্শনের সময় ভেজাল বা মানসম্পন্ন নয় সন্দেহে কনফিডেন্স আয়োডিনযুক্ত ভ্যাকুয়াম লবণের প্যাকেট নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়।
নগদ ৪০ টাকা দিয়ে ১ কেজি লবণ কিনে বিক্রেতা মো. তাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে নমুনাটি চারটি সমান ভাগে বিভক্ত করে সিলমোহর করা হয়। একটি অংশ বিক্রেতাকে প্রদান করা হয়, একটি অংশ ভবিষ্যতে তুলনার জন্য প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয় এবং বাকি দুইটি অংশ আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াছ জাহেদীর স্বাক্ষরিত পরীক্ষার সনদ অনুযায়ী, পরীক্ষিত লবণে সোডিয়াম ক্লোরাইডের মাত্রা ৯৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা নির্ধারিত মানের মধ্যে রয়েছে।
তবে একই সনদে দেখা যায়, লবণে আয়োডিনের মাত্রা মাত্র ১৩ পিপিএম, যেখানে নির্ধারিত মান ২০ থেকে ৫০ পিপিএম। পাশাপাশি সালফেটের মাত্রা দশমিক শূন্য শূন্য ১ শতাংশ, যা নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা দশমিক ৬ শতাংশের অনেক নিচে।
এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নমুনাটিকে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী ‘নিরাপদ নয়’ এবং ‘মানসম্পন্ন নয়’ ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে ৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের মালিক সাদিউল ইসলামকে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব প্রদান করা হলেও তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় অবস্থিত।
আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।


