ভেঙে ফেলা হচ্ছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ভাস্কর্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘অধিকাংশ শিক্ষার্থীর’ দাবির মুখে এটি ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি চলার সময় ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলতে শুরু করে প্রশাসন। গত বছর জানুয়ারিতে উদ্বোধন হয়েছিল এটি। কবির গানের নামানুসারে তৈরি এ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ এবং পুরাতন কলা অনুষদ ভবনের মাঝখানের পুকুরপাড়ে। সৌন্দর্য বর্ধনসহ প্রকল্প ব্যয় ছিল চার কোটির বেশি টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘অধিকাংশ শিক্ষার্থীর’ দাবির কথা বললেও একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বলেছেন, গত বছর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনের নির্দেশেই এটি ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়। তখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একাংশ এর বিরোধিতা করে আসছিলেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, ভাস্কর্যটি ভাঙা শুরু হলেও আপতত এটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার কাজ স্থগিত রয়েছে। পরে সৌন্দর্য বর্ধনে নতুনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি দাবি করে বলেন, ‘ওই ভাস্কর্য নিয়ে অনেক আপত্তি উঠেছিল। “অধিকাংশ শিক্ষার্থী” এটি ভেঙে ফেলার দাবি করেছেন।’
নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের নাচের সময় তার হাতের মুদ্রার আদলে তৈরি হয়েছিল ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ভাস্কর্য।
মুনমুন আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঘটনাটি জেনে মর্মাহত হয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘যে দেশে শিল্প-সংস্কৃতি লুকিয়ে রাখা হয়, সে দেশকে সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। নজরুলের গানের আঙ্গিকে তৈরি ওই স্থাপত্যটি নান্দনিক, এতে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ছোঁয়াও নেই।’
শিল্পী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ক্ষুদ্র স্বার্থে কেন জাতিগত ক্ষতি হবে? সব যদি বাদ দিতে হয়, তাহলে আমাদের পরিচয় কী থাকবে?’
‘অঞ্জলি লহ মোর’ এর ভাস্কর মনিন্দ্র পাল টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর থেকে যেন “মৃত্যু যন্ত্রণা” কাতরাচ্ছি।’
‘দেশে যা হচ্ছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায়, এমনটা আশা করি না। যে জাতির সংস্কৃতি যত উন্নত, সে জাতি তত সভ্য। তাছাড়া ‘‘অঞ্জলি লহ মোর” তো কোনো রাজনৈতিক ভাস্কর্য নয়’, যোগ করেন তিনি।
শিল্পী মনিন্দ্র বলেন, ‘আমার নির্মিত শতাধিক ভাস্কর্যের অধিকাংশই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ খবরগুলো শোনার পর “মৃত্যু যন্ত্রণার” মতো যন্ত্রণা হচ্ছে!’


