ওয়াহিদ ইবনে রেজার ‘আফটার আস’ জাপানে পুরস্কৃত

ওয়াহিদ ইবনে রেজার ‘আফটার আস’ জাপানে পুরস্কৃত
Advertisement
Advertisement

ওয়াহিদ ইবনে রেজা এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব ‘শর্ট শর্টস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অ্যান্ড এশিয়া (এসএসএফএফ অ্যান্ড এশিয়া) ২০২৬’-এ মর্যাদাপূর্ণ ‘সেভ দ্য আর্থ! মিনিস্টারস অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।

অস্কার স্বীকৃত এই উৎসবে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এ পুরস্কারটি সেই চলচ্চিত্রকে প্রদান করা হয়, যা পরিবেশগত বিষয় নিয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা তুলে ধরে।

রেজা পরিচালিত অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আফটার আস’ মানবশূন্য এক পৃথিবীতে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের অনন্য গল্প তুলে ধরার জন্য প্রতিযোগিতার সব চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছে।

পাঁচ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের গল্প আবর্তিত হয়েছে এমন এক ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে ঘিরে, যেখানে মানুষের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে একটি নেকড়ে ও একটি উলভারিন নিস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে নতুন করে বেঁচে থাকার এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ৫ জুন পুরস্কার ঘোষণার সময় উৎসব কর্তৃপক্ষ চলচ্চিত্রটির পরিবেশবিষয়ক বার্তা ও কল্পনাপ্রসূত গল্প বলার ধরনকে বিশেষভাবে প্রশংসা করে।

এক বিবৃতিতে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ‘আফটার আস’-কে ‘অত্যন্ত চিন্তাপ্রবণ একটি কাজ’ বলে উল্লেখ করে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিরোতাকা ইশিহারা বলেন, প্রাণীদের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের মূল তাৎপর্য চলচ্চিত্রটিতে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘ধ্বংসের পরও প্রকৃতির পুনর্জন্মের সক্ষমতা এবং সেই পুনর্জাগরণের মধ্য থেকে নতুন এক সামঞ্জস্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনাকে চলচ্চিত্রটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম অথচ শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছে।’

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলচ্চিত্রটি পরিবেশগত সংকটকে দূরবর্তী কোনো সমস্যা হিসেবে নয়, বরং এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এমন একটি জরুরি বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

পুরস্কার গ্রহণ করে ওয়াহিদ ইবনে রেজা উৎসব কর্তৃপক্ষ এবং চলচ্চিত্রটির প্রযোজক কানাডার ন্যাশনাল ফিল্ম বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘এটি সত্যিই অসাধারণ এক সম্মান। তাদের সঙ্গে কাজ করার সময় আমি পূর্ণ সৃজনশীল স্বাধীনতা পেয়েছি।’

রেজা চলচ্চিত্রটির কলাকুশলী, সহকর্মী এবং পুরো নির্মাণযাত্রায় পাশে থাকা বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি এ পুরস্কার উৎসর্গ করেন তার সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সামারাকে।

রেজা বলেন, ‘আমি সত্যিই আশা করি আমরা সবাই মিলে পৃথিবীটাকে তার এবং তার প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলতে পারব।’

বর্তমানে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভারে বসবাসরত ওয়াহিদ ইবনে রেজা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও অ্যানিমেশন জগতে কাজ করছেন। তিনি এমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ও অস্কার মনোনীত বিভিন্ন প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার নির্মাণকর্মে লাইভ-অ্যাকশন ও অ্যানিমেশন—উভয় মাধ্যমই স্থান পেয়েছে; যেখানে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, ফ্যান্টাসি, কমেডি ও অ্যাকশনের উপাদান প্রায়ই দেখা যায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad