গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডারবাহী লরিতে গ্যাস সরবরাহের অভিযোগে গাজীপুরে ছয়টি সিএনজি স্টেশনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অনিয়মের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২ কোটি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
সোমবার দিনব্যাপী তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
অভিযানে নগরীর নাওজোর এলাকার রিয়াজ ফিলিং স্টেশনে বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ক্যাপটিভ সংযোগ এবং সিএনজি সংযোগকে একই ক্যাটাগরিভুক্ত দেখিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া অবৈধভাবে সিলিন্ডারবাহী লরিতে গ্যাস সরবরাহের দায়ে আরও পাঁচটি সিএনজি স্টেশনকে এক লাখ টাকা করে মোট পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো মাহবুব ফিলিং স্টেশন, মাম সিএনজি স্টেশন, আল-হেরা সিএনজি স্টেশন, ব্লেস সিএনজি স্টেশন ও সুশল সিএনজি স্টেশন।
এ ছাড়া ওই ছয় সিএনজি স্টেশনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের অনিয়মিত ব্যবহার, অবৈধ সরবরাহ এবং গ্যাস খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুদক গাজীপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এনামুল হক বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, তিতাস গ্যাস, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে সরকার নির্ধারিত বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে বিভিন্ন সিলিন্ডারবাহী লরিতে অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি সারা রাতও এসব লরিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা আইনবহির্ভূত ও অপরাধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংকটকালীন সময়ে এভাবে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে সারা দেশে একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস বিক্রি করছে। এতে সরকার ও সাধারণ মানুষ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি জানান, গ্যাস খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


