চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য বলেন, ‘আমি নিজেই অবরুদ্ধ। শিক্ষার্থীদের গাড়িতে হামলা হয়ে থাকলে তা নিন্দনীয়। ওরা যদি লিখিত দেয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। কেউ আহত হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’
সোমবার চুয়েটের উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় বাসে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষক সমিতির দাবির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষক সমিতিকে তাদের দাবি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছি। তার ভাষায়, ‘আমি পেশাদারত্ব বজায় রেখে কাজ করতে এসেছি।’
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি জানান, তার কাছে শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি বা বক্তব্য নেই। লিখিতভাবে দাবি জানানো হলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করা হবে।
সারাদিন উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ থাকার পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি জানান, তার সঙ্গে চারজন সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন তার বন্ধু এবং দুজন বড় ভাই। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীও ছয়-সাতজন রয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘তারা আন্দোলন করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু আমি দপ্তরে এলাম ৯টায়, তার দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেওয়াটা অমানবিক।’
পদত্যাগের শর্তে উপাচার্যকে উপাচার্য ভবন থেকে বের হওয়ার প্রস্তাব
এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে পদত্যাগের শর্তে উপাচার্য ভবন থেকে বের হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য পদত্যাগপত্র লিখে তাদের কাছে হস্তান্তর করলে অথবা প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলে ভবনের তালা খুলে তাকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, উপাচার্য পদত্যাগে রাজি না হলে এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রাখা হবে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মদুনাঘাট ও চান্দগাঁও টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার পর উপাচার্য বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। তাদের দাবি, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীরা ভবনের ভেতরের ফটকে তালা দেন। এতে তিনি ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একই দিন চুয়েটগামী শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার ঘটনাও ঘটে।


