কখনো তানজিদ হাসান তামিমের সাথে পারভেজ হোসেন ইমন, কখনো তার সাথে সাইফ হাসান কিংবা লিটন দাস। কখনো আবার ইমনের সাথে দেখা গেছে নাইম শেখকেও। চলতি বছর এভাবেই বারবার বদলেছে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। ২০২৫ সালে ৩০ ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে ওপেন করেছে ভিন্ন সাতটি জুটি। যেখানে তানজিদ-ইমন সর্বোচ্চ ১৯ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছেন আগে।
ওপেনিং জুটি বারবার বদলকে অবশ্য ভালোভাবেই নিচ্ছেন তানজিদ। সোমবার মিরপুরের ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন শেষে এই বাঁহাতি ওপেনার জানান, ওপেনিং পজিশনের জন্য কেউই একেবারে থিতু নন। দলের প্রয়োজনে ইমন, সাইফদের টপ অর্ডারের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাট করতে হয়েছে। যে কারণে সর্বশেষ দুটো সিরিজেও দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন জুটি।
মিরপুর একাডেমি গ্রাউন্ডের সামনে সাংবাদিকদের তানজিদ বলেন, ‘আসলে এখানে কেউই সেটেলড না। দলের জন্য যখন যাকে যেখানে দরকার হবে, সে সেই পজিশনেই খেলবে। গত সিরিজেও আপনারা দেখেছেন যে একজন ওপেনার ব্যাটসম্যানকে তিন-চার নম্বরে খেলানো হয়েছে। আমার মনে হয় এখানে সেটেলড বলে কিছু নেই। দলের কাছে যেটা ভালো মনে হবে, সেটাই আর কি।’
রবিবার বিশেষ ব্যাটিং ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিন শেষে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেছিলেন, জায়গায় দাঁড়িয়ে ছক্কা মারার সক্ষমতা থাকার জন্যই সাইফ, ইমনদের ব্যাটিং অর্ডারের বিভিন্ন জায়গায় তারা খেলাচ্ছেন। তানজিদকেও তার সেই বিবেচনায় রাখছেন।
আশরাফুল এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘কেউ যদি একটা জায়গায় সেটেল্ড হতে পারে, খুবই ভালো। কিন্তু সাইফ বলেন, পারভেজ ইমন বলেন, তানজিদ তামিম বলেন…. তাদের একটা গুণ হল যে, তারা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছয় মারতে পারে।’
টপ অর্ডারে ফ্লোটিং ব্যাটার নিয়ে আশরাফুল আরো বলেন, ‘লিটনকে দেখেন, ওপেনিং করতে পারে, সে নাম্বার থ্রি খেলছেন। সাইফও ওপেনিং করতে পারে, তাকে নাম্বার ফোরে খেলিয়েছেন। পারভেজ ইমনও ওপেনিং করে, তাকে চারে খেলিয়েছেন লাস্ট ম্যাচে। সবাই ই বেশ সফল। তো এটা একটা পজিটিভ দিক যে আপনার সব সিচুয়েশন খেলার যদি জানেন, তাহলে আপনার জন্য টিমের জন্যও ভালো।’
আশরাফুলের সেই কথার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন গিয়েছিল তানজিদের দিকেও। ওপেনিং ছেড়ে তিন-অথবা চার নম্বরে ব্যাট করার চ্যালেঞ্জটা তিনি কীভাবে দেখছেন। ৪৫ টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে দুইবার তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করা তানজিদ বলেন, ‘আমি এখনো তিন-চার নম্বরে খেলিনি, তাই বলতে পারব না আসলে পরিস্থিতিটা কেমন। যদি ভবিষ্যতে আমাকে এমন সুযোগ দেওয়া হয়, তবে আমি চেষ্টা করব দল যেটা আমার কাছে ডিমান্ড করে, সেটা ফুলফিল করার।’


