কক্সবাজারের উখিয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অতিমূল্যবান চাঁপালিশ প্রজাতির একটি মাদার ট্রি
(মাতৃগাছ) কেটে পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করেছে বন বিভাগ।
রোববার বিকালে উখিয়া রেঞ্জের হলদিয়া বিটের হাতিরঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কথিত হেডম্যান আব্দুল গফুর লাভুর আমবাগান থেকে কাটা গাছটি জব্দ করা হয়।
বন বিভাগ জানায়, উদ্ধার হওয়া চাঁপালিশ গাছটির বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর। এটি একটি ‘মাদার ট্রি’বা বীজ উৎপাদনকারী পরিণত গাছ। বনাঞ্চলের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের গাছ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বীজ ছড়িয়ে পড়ে নতুন গাছ জন্মাতে সহায়তা করে, বনজ বাস্তুতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঈদুল আজহার দীর্ঘ সরকারি ছুটির সুযোগে গাছটি কেটে প্রায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছটি জব্দ করেন। পরে গভীর রাতে ড্রাম-ট্রাকে করে কাটা গাছ উখিয়া রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
বন বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা কাঠের পরিমাণ প্রায় ৮০ ঘনফুট।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘উখিয়া রেঞ্জের হলদিয়া বিটের হাতিরঘোনা এলাকা থেকে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি একটি চাঁপালিশ গাছ চোরেরা কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা সেটি উদ্ধার করেছি। হেডম্যান পরিচয়দানকারী অসাধু ব্যক্তি লাভুর দখলে থাকা পাহাড়ে গাছটি ছিল। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পরিণত মাদার ট্রি ভবিষ্যৎ বন তৈরির অন্যতম উৎস। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এই ধরনের গাছ নিধনের ফলে বৃক্ষ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাখি, বন্যপ্রাণী ও বিভিন্ন ক্ষুদ্রপ্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ে। বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
উখিয়া ও টেকনাফের বনাঞ্চল বর্তমানে পাহাড় কাটা, অবৈধ দখল, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ ও কাঠ পাচারের মতো নানা চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে মাদারন ট্রি কর্তনের ঘটনা বন সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বন বিভাগ।


