ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করবে কিনা, সেটাই এখন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এখন সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৩ ফেব্রুয়ারি মানুষ ফলাফল বিশ্বাস করবে কি না? মিডিয়ার গল্পগুলো বিশ্বাস করবে কি না? পরবর্তী সরকারকে বিশ্বাস করবে কি না? তাই তথ্যের অখণ্ডতা সত্যিই সেই অংশের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ কারণ আপনি আর আমি ভোট গণনা করব না।’
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল অ্যান্ড পলিসি সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
সুজান ভাইজ বলেন, ‘নির্বাচন কেবল ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যাপার নয়। নির্বাচনের প্রক্রিয়া ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির পরেও চলবে। তাই, এই নির্বাচন ঘিরে থাকা তথ্যের ইকোসিস্টেম একটি শক্তিশালী নির্বাচনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। যার ফলাফল অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য হবে। এজন্য অবশ্যই তথ্যের অখন্ডতা নিশ্চিত করতে হবে।’
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী স্বাধীন গণমাধ্যম থাকার ওপরও জোর দেন তিনি।
তার মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে কেবল গণমাধ্যম যা চায় তাই প্রকাশ করার স্বাধীনতা নয়। বরং এই স্বাধীনতার সঙ্গে এক ধরনের দায়িত্ববোধও যুক্ত থাকে। আর সেই দায়িত্ব হলো যা প্রকাশ করা হবে তা বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা এবং যথাযথ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ তৈরি করা।
সুজান বলেণ, ‘এখানেই গুড মিডিয়া, ব্যাড মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে বাউন্ডারি ভেঙে যায়। গুড মিডিয়া ফ্যাক্ট চেকিং করে। ব্যাড মিডিয়া হয়ত আপনাকে ম্যানিপুলেট করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যা মন চায় তাই লেখা যেতে পারে ‘
ভুল তথ্য, অপতথ্য এড়াতে ডিজিটাল লিটারেসি থাকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন ইউনেসকোর এই প্রতিনিধি।
সেমিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত রয়্যাল নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রান্ডসেন, ‘নরওয়ের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে স্বীকৃত, তবে এটি রাতারাতি ঘটেনি। আমাদের এই ব্যবস্থাটি কয়েক শতাব্দীর সংস্কার, আলোচনা এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আস্থার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘নরওয়েতে সম্পূর্ণ ভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা প্রায়ই একে অপরের বন্ধু হন। এটি একটি অসাধারণ বিষয়। আমাদের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন, যা নরওয়েকে একটি শান্ত এবং স্থিতিশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। আমরা বিশ্বাস করি যে ব্যক্তিগত সৌজন্য এবং শ্রদ্ধা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।’
নরওয়ের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নরওয়েতে নির্বাচনী প্রচারণার অনুদান এবং রাজনৈতিক দলের অর্থায়নের বিষয়েও কঠোর নিয়ম ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা রয়েছে। এই রাজনৈতিক অর্থায়ন সাধারণত অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং নৈতিক উপায়ে হয়।’
এসময় সেমিনারে বাংলাদেশে স্থিতিস্থাপক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চারটি মূল সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সুপারিশগুলো হলো: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, ডিজিটাল অপপ্রচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি স্বাধীন পর্যবেক্ষক ও দলীয় এজেন্টদের নিরাপত্তাসহ শক্তিশালী তদারকি, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজ ও সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ।


