চলতি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত চার মাসে অন্য কোনো ব্যাংককে নতুন করে তারল্য সহায়তা দিতে না হলেও ইসলামী ব্যাংককে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকটি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা না করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইন অনুযায়ী কাজ করছে এবং আইনের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিভিন্ন মাধ্যমে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে এ ধরনের আলোচনা থেকে বিরত থাকা উচিত।
গভর্নরের ভাষায়, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করব, একটু ধৈর্য ধরুন। এটি একটি ব্যাংক। এটি ব্যাংক কোম্পানি আইন দ্বারা পরিচালিত। আমরা আইনের বাইরে কিছু করব না।’
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাংকটি নিয়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ ও জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করতে চায় না। কারণ, অনেক বিষয় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
‘খুব বেশি কথা বলতে চাই না। একটু সময় দেন। ব্যাংক কোম্পানি আইনের বাইরে চলে যাওয়া বিষয়গুলো আমরা ঠিক করছি। আমার বিশ্বাস, খুব তাড়াতাড়িই এগুলো ঠিক হয়ে যাবে,’ বলেন গভর্নর।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ, পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন ওঠে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে গভর্নর বলেন, সব সিদ্ধান্ত নির্ধারিত আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসারেই নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ কমানো এবং বিশেষ নিরীক্ষার মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


