মেট্রোরেল যাত্রীসেবায় বিদ্যমান ভ্যাট ছাড় আরও ১০ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটি বলেছে, ভাড়া সহনীয় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে সেবাটির আর্থিক টেকসইতা নিশ্চিত করতে এই ছাড় প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে পাঠানো এক চিঠিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি অনুরোধ করেছে যাতে বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সুপারিশসহ পাঠানো হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০৩৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভ্যাট ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে। বর্তমানে মেট্রোরেল টিকিটের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ জুন।
ডিএমটিসিএল বলেছে, মেট্রোরেল এখনো একটি ‘ইনফ্যান্ট ইন্ডাস্ট্রি’, তাই এর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা এবং যাত্রীদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
সংস্থাটি ভ্যাট অব্যাহতি বজায় রাখার পক্ষে ১৭টি যুক্তি তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ মেট্রোব্যবস্থা কেবল ভাড়া থেকে লাভজনক হয় না। সাধারণত টিকিট বিক্রি দিয়ে পরিচালন ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ হয়, বাকি অংশ সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়।
ডিএমটিসিএল ভ্যাট আরোপের কারিগরি জটিলতার কথাও উল্লেখ করেছে। মেট্রোরেলে যাত্রী শ্রেণি বিভাজন না থাকায় ভ্যাট সব ভাড়ার ওপর সমানভাবে আরোপ করতে হবে।
এতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হলে প্রথম ভাড়া স্তর বেড়ে ২৩ টাকা এবং দ্বিতীয়টি ৩৪ টাকা হবে। কিন্তু মেট্রোরেলের স্বয়ংক্রিয় টিকিট মেশিনগুলো ১০ টাকার গুণিতকে কাজ করে, ফলে ছোট অঙ্কের ভাড়া ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ প্রস্তাবে মেট্রোরেলের অর্থনৈতিক সুফলের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-৬ পুরোপুরি চালু হলে যাত্রীরা প্রতিদিন যাতায়াতের সময় সাশ্রয় থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৩৮ কোটি এবং যানবাহন পরিচালনা ব্যয় থেকে ১ দশমিক ১৮ কোটি সাশ্রয় করতে পারবেন।
এ ছাড়া মেট্রোরেল ঢাকার যানজট কমাতে এবং সড়ক ব্যবস্থার ওপর চাপ হ্রাস করতেও সহায়তা করছে।
বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল লাইন উদ্বোধন করা হয় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর, যা প্রথমে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হয় এবং পরদিন যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর সেবাটি মতিঝিল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়।
শুরু থেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই সেবার টিকিটে ভ্যাট আরোপ করা হয়নি। বর্তমানে নিয়মিত প্রায় চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছে ডিএমটিসিএল।


