গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জনপ্রিয়তা কারও কারও সহ্য হচ্ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সে কারণেই ষড়যন্ত্র করে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
রোববার ভোরে ফজরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি একথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘হাদির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাই কারও কারও সহ্য হচ্ছিল না। সে কারণেই পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিপ্লবীদের হত্যা করে তাদের আদর্শ বা চেতনাকে কখনো দমন করা যায় না, বরং রক্তদানের মাধ্যমে সেই চেতনা আরও বিস্তৃত ও বেগবান হয়।’
হত্যাকারীদের বিচার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, হাদির খুনিরা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের দুশমন। কারণ তারা এমন একজনকে হত্যা করেছেন যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তার পক্ষে লড়াই করত।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে জনগণের অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার যা করছে, তাতে জনগণ এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। হাদির খুনিদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
হাদির স্মৃতিচারণ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘হাদি কোনোদিন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করেননি। তিনি সব সময় ইনসাফের কথা বলতেন। এমনকি নিজের শত্রুর প্রতিও যেন বে-ইনসাফি না হয়, সে ব্যাপারে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তার এই চারিত্রিক মাধুর্য ও ইনসাফপূর্ণ কথা তাকে অনেকের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছিল। সম্ভবত এই ভালোবাসাটাই ঘাতকদের জন্য সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’
আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশা প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং জনমতের প্রতিফলক নির্বাচনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান ওসমান হাদি।
১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ বহনকারী বিমান দেশে এসে পৌঁছায়। পরে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।


