সরকারিভাবে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। নিয়ম অনুযায়ী রাত ১২টার পর ইলিশ শিকারে দেশের নদ-নদীতে নামবেন জেলেরা। তবে মাদারীপুর জেলার শিবচরের পদ্মায় পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পদ্মাপাড়ের সাধারণ জেলেরা।
তাদের ভাষ্যমতে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এ বছর দেদারসে ইলিশ শিকার করেছে অনেক জেলে। অন্যান্য বছরের তুলনায় নিষিদ্ধ মৌসুমে অনেকটা স্বাচ্ছন্দেই তারা ইলিশ শিকার করে পদ্মাপাড়ে বিক্রি করেছে। প্রশাসনের খুব বেশি কঠোরতা না থাকায় এ সময় প্রচুর মা ইলিশ ধরা পড়েছে। ফলে আগামীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিবচরের পদ্মায় পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে!
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার শিবচরের পদ্মাপাড়ের দুটি স্পটে পুরো নিষিদ্ধ সময়েই সকাল-বিকাল প্রকাশ্যে মাছ বিক্রি হয়েছে। সাধারণ ক্রেতারাও নির্বিঘ্নে মাছ কিনে বাড়ি ফিরেছে। পথে কোথাও তেমন কোনো বাধা ছিল না। প্রশাসন পদ্মানদীর বিভিন্ন অংশে অভিযান পরিচালনা করলেও বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এ বছর অভিযান বেশ ঢিলেঢালা ছিল বলে মনে করেন পদ্মাপাড়ের সাধারণ মানুষ।
পদ্মাপাড়ের কাজিরসুরা এলাকার মো. হাসান মিয়া বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রতিদিনই কাজিরসুরায় পদ্মাপাড়ের ইলিশ বিক্রি হয়েছে। প্রশাসন একদিন হাটে অভিযান চালালেও, এরপর আর আসেনি। অন্যান্য বছরে মাছ ধরলেও অসাধু জেলেরা ভয়ে ছিল। নির্বিঘ্নে অবাধে বিক্রি করতে পারেনি। এবারের চিত্রটা ভিন্ন। নিষিদ্ধ মৌসুমেই অবাধে ইলিশ ধরা পড়েছে পদ্মায়। এবার, সারা বছর আসলে কতটা মাছ পাওয়া যাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’
শিবচর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত শিবচরের পদ্মা নদীতে ৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ছয় লাখ ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এ সময় আটক জেলেদের মধ্যে ৫৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া, জরিমানা আদায় করা হয় ১৬ হাজার টাকা, জব্দ করা হয় ৩০ কেজি ইলিশ।
শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার জানান, ‘শুরু থেকে আমাদের টিম পদ্মানদীতে নিয়মিত অভিযান চালিয়েছে। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি, ইলিশ ডিম ছাড়তে পেরেছে। যদিও ইলিশ সারা বছরই ডিম ছাড়ে, তবে এটা মৌসুম। তা ছাড়া, দস্যু জেলেদের জন্য এবং কিছু অসাধু ক্রেতাদের দমন করা গেলে অভিযান আরও সফল হতে পারত।’


