মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব নাকচ
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব বুধবার ভোটাভুটিতে বাতিল হয়ে গেছে। প্রস্তাবটির বিপক্ষে ৫২টি এবং পক্ষে ৪৭টি ভোট পড়ে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ৪৭-৫২ ভোটের ব্যবধানে এই ডেমোক্রেটিক প্রস্তাবটি ব্যর্থ হয়। মূলত দলীয় লাইনেই এই ভোট হয়েছে।
এই প্রস্তাবের লক্ষ্য ছিল কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
ডেমোক্র্যাট সদস্যরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ট্রাম্পের এই সামরিক পদক্ষেপ অবৈধ এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্টের যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
এখন এই ভোটটিকে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। প্রস্তাবটি পাস না হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে কোনো আইনি বাধা ছাড়াই ইরানে তাদের সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা

লেবানন ও ইরানে হামলা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা ইসরায়েলের
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান এয়াল জামির লেবানন ও ইরানে হামলা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী লেবানন ও ইরান—উভয় ক্ষেত্রেই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলিতভাবে তারা ইরানে জোরালো হামলা চালিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করেছে এবং শক্তি কমিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পারমাণবিক ইস্যু, হরমুজ প্রণালি এবং অন্যান্য বিষয়ে তাদের কোনো অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। আমরা প্রয়োজনে দ্রুত শক্তিশালী হামলা চালাব।’
লেবানন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‘আমরা গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখল করছি, পরিষ্কার করছি এবং উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলোর জন্য হুমকি দূর করছি’ বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা নিয়ে ইরান গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন বার্তা নিয়ে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে গেছে।
বুধবার তেহরানে পৌঁছায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাদের স্বাগত জানান। এই সফরের বিষয়টি আল-জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে ইরানি সূত্রগুলো।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, এই উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও “চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে” ইরানের রাজধানীতে ছিলেন।
ইরান নিশ্চিত করেছে, গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ার পর থেকে তারা এবং পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বকে “অবিশ্বাস্য দুই দিনের” জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এ ছাড়া ট্রাম্প একদিন আগে বলেন, তার আলোচকরা সম্ভবত আবারও পাকিস্তানে ফিরবেন, কারণ সেনাপ্রধান আসিম মুনির আলোচনাগুলোকে মধ্যস্থতায় “খুব ভালো কাজ” করছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে, যা ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।
মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি প্রধান ইস্যুতে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা গত সপ্তাহান্তের আলোচনাকে ব্যর্থ করেছিল। সেগুলো হলো—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের কারণে ইরানে হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি শিগগিরই: হিজবুল্লাহ
হিজবুল্লাহর মুখপাত্র ও সংসদ সদস্য ইব্রাহিম মুসাওয়ি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান ও আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রচেষ্টায় লেবাননে খুব শিগগিরই যুদ্ধবিরতি হতে পারে।

এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেবাননের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থাটিকে নিশ্চিত করেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চলছে। তবে এটি কখন শুরু হবে বা কতদিন স্থায়ী হবে—সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানাননি।
তারা আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়কাল সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা বা বিরতির স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করবে। সূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধে জড়াতে ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করব না: স্টারমার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন না। বুধবার পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি এ কথা জানান।

ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পরিবর্তনে ট্রাম্পের হুমকির পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল স্টারমার। খবর আল জাজিরার
স্টারমার বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ নিয়ে আমার অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। আমরা এই যুদ্ধে জড়াব না। এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার সিদ্ধান্ত বদলাব না। আমি নতি স্বীকার করব না। এই যুদ্ধে যোগ দেওয়া আমাদের জাতীয় স্বার্থে নয়, এবং আমরা তা করব না।’
যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়নি যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়নি বলে রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে।
এবার লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধের হুমকি দিল ইরান
এবার লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদোল্লাহি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেবে না।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সূচনা বলে উল্লেখ করেছেন আলী আবদোল্লাহি।
ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থ রক্ষায় চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি।
ইরানকে অস্ত্র না দিতে চীনকে ট্রাম্পের চিঠি
ইরানকে অস্ত্র না দিতে চীনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, চিঠিতে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করতে বলেছেন। জবাবে সি জানিয়েছেন, তিনি এমন কিছু করছেন না।

ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমি শুনেছিলাম চীন ইরানকে অস্ত্র দিচ্ছে—অর্থাৎ, আপনারা সব জায়গাতেই এমনটা দেখতে পাচ্ছেন।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাকে চিঠি লিখে এমনটা না করতে বলেছিলাম। তিনি আমাকে ফিরতি চিঠিতে জানিয়েছেন, নিশ্চিতভাবে তিনি এমন কিছু করছেন না।’
এর আগে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যেও চীনের পক্ষ থেকে ইরানকে উন্নত অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।


