ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের সিদোয়ারজো শহরে গত সপ্তাহে ধসে পড়া একটি স্কুল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ওই দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সিদোয়ারজো শহরে অবস্থিত আল খোজিনি ইসলামিক আবাসিক স্কুলের ভবন ধসে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে শতাধিক শিক্ষার্থী।
দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর রোববার রাত পর্যন্ত ৮০ শতাংশ আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। এ সময় আটকে পড়া কিশোরদের মরদেহ ও শরীরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার উপ-পরিচালক বুদি ইরাওয়ান জানান, নিখোঁজ ১৩ জনের সন্ধানে সোমবার পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হবে।
তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী ভবনধসের ঘটনা এটি। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক কিংবা অপ্রাকৃতিক যেকোনো ধরনের দুর্যোগের মধ্যে এতেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে।’
তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা য়ুদি ব্রামোন্ত বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও পাঁচটি শরীরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধার সংস্থার শেয়ার করা ফুটেজে দেখা গেছে, কমলা রঙের বডি ব্যাগে করে মরদেহগুলো স্কুল ভবনের ধ্বংসাবশেষের বাইরে সরিয়ে নিচ্ছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ভবনের ওপরের তলায় নির্মাণ কাজ চলছিল। ভবনের মূল কাঠামো সেই ভার বহন করতে পারেনি। তাতেই এ ধসের ঘটনা ঘটে।
দেশটির ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, আল খোজিনির মতো ইসলামিক স্কুল বা মাদ্রাসাগুলো স্থানীয়ভাবে ‘পেসানত্রেন’ নামে পরিচিত। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বাস ইন্দোনেশিয়ায়। যেখানে এমন প্রায় ৪২ হাজার ‘পেসানত্রেনে’ পড়াশোনা করে ৭০ লাখ শিক্ষার্থী।


