ঢাকার মগবাজারে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার পর আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকবে এবং ভর্তি থাকা রোগীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
তিনি জানান, ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস, প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের ৪ জুন স্মারক অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয় এবং কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না সে বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়। পরবর্তীতে সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করে ৯ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।’
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘প্রাপ্ত জবাব ও ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশের ১১(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো।’
লাইসেন্স বাতিলের পর রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধিদপ্তর জানায়, সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকবে। তবে ভর্তি থাকা রোগীদের বিষয়ে মানবিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর নতুন রোগী ভর্তি বা সেবা দেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নয়। তবে ভর্তি রোগীদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে রোগী ও তাদের পরিবারের অনুরোধ পেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও সহায়তা করবে।
ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং নির্ধারিত বিচারিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোররাতে আদ-দ্বীন হাসপাতালের অস্ত্রোপচার পরবর্তী ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) তিন সদস্যের উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় একাধিক ত্রুটি, পরিবেশগত সমস্যা ও ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক-নার্সদের অবহেলা চিহ্নিত করা হয়।


