টানা দুই মাস ধরে ইসরায়েলি অবরোধের ফলে গাজায় খাদ্য সাহায্য প্রবেশ একপ্রকার বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। পরিবার-পরিজনকে খাওয়াতে না পেরে অনেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এতে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিয়েছে।
শনিবার স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, গাজার উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার গুদামঘর, দোকান ও বেকারিতে লুটপাট শুরু হয়েছে। লুটপাটকারীদের মধ্যে সশস্ত্র লোকজনও রয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মার্চে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকেই সেখানে মানবিক ত্রাণ সহায়তা আটকে যায়। এখন সেখানে ২০ লাখের বেশি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছেন।
ইসরায়েল বলছে, হামাসের হাতে বন্দি ৫৯ জনকে মুক্ত করতেই এই ‘খাদ্য সহায়তা অবরোধ’ ও হামলা। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন সতর্ক করে বলেছে, অনাহারকে ‘যুদ্ধ কৌশল’ হিসেবে ব্যবহার করা যুদ্ধাপরাধ।
ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, এ পরিস্থিতিতে গাজার সাধারণ মানুষ ক্ষুধার্ত এবং মরিয়া হয়ে পড়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
দক্ষিণ গাজা থেকে উত্তরে ত্রাণ ঢুকেছে— এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সন্ধ্যা থেকে গাজা শহরে লুটপাট শুরু হয়। একটি খালি বেকারিতে হামলার পর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার স্যুপ রান্নার কেন্দ্রেও লুট চালানো হয়।
জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রম সংস্থা (ইউএনআরডাব্লিউএ) জানিয়েছে, গাজা শহরের তাদের অফিসে হাজারো লোক ঢুকে পড়ায় কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়েছে। তারা বলছে, চরম অভাবের ফলেই এমনটা ঘটেছে।
শুক্রবার রাতেও লুট চলেছে। অন্তত দুটি গুদামে সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালিয়ে নিরাপত্তা প্রহরীদের বাধা উপেক্ষা করে ঢুকে পড়ে। বাসিন্দারা বলছেন, এসব সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ।
এই অবনতিশীল পরিস্থিতিকে বিশ্লেষকেরা গভীর মানবিক সংকট ও আইনের শাসনের ভাঙনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।


