ইংরেজি দৈনিক ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ নতুন কলেবরে ও নতুনরূপে প্রকাশিত হচ্ছে এ বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে। আজ এই লেখা যখন লিখছি, পহেলা নভেম্বর, কাগজটির বয়স দুই মাস। এটি দেশের ইংরেজি পত্রিকাগুলোর মধ্যে তুলনামূলক নবীন হলেও, সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোতে কিছু সচেতন ও সাহসী পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ‘এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি’স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই পত্রিকাটি শুরুতে কিছুটা প্রচলিত ধারার অনুসারী ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের ভিজ্যুয়াল ও সম্পাদকীয় পরিচয় গঠনের পথে এগোচ্ছে, যা প্রশংসনীয়। গত দুমাসে অভিনব ১০ টি মেকাপ হয়েছে এই পত্রিকার যা, বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় প্রথা ভাঙা মেকআপ বলে চিহ্নিত করা যায়। যথাযথ সাহস, পরিকল্পনা, এডিটোরিয়াল অবস্থান ও সৃজনশীল চিন্তা না থাকলে এটি সম্ভব হতো না। আমি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষক, সংবাদপত্রের পৃষ্টাসজ্জা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছি। এই নবতর কাগজটির ক্ল্যাসিক কিছু কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে স্বেচ্ছায় এই বিশ্লেষণ লিখছি। লেখার শেষে কিছু পরামর্শও থাকবে।
‘টাইমস’-এর পৃষ্ঠাসজ্জায় এখন এক ধরনের পরিশীলিত সরলতা দেখা যাচ্ছে। প্রথম পৃষ্ঠায় ছবি ব্যবহারের অনুপাত ভালো, ফলে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ সহজ হচ্ছে। হোয়াইট স্পেস ও কলামবিন্যাস ভারসাম্যপূর্ণ, যা পাঠের সুবিধা বাড়িয়েছে। ইনফোগ্রাফিক, ডেটা বক্স বা ভিজ্যুয়াল কোট সংযোজনের চেষ্টাও লক্ষ্য করা যায়, যা আধুনিক সাংবাদিকতার অপরিহার্য উপাদান। যদিও, ফন্ট ব্যবহারে বৈচিত্র্যের অভাব রয়েছে—বিশেষ করে হেডলাইন ও সাবহেডের মধ্যে পর্যাপ্ত ভিজ্যুয়াল পার্থক্য নেই। কিছু পাতায় টেক্সট ও ছবির অনুপাত ভারসাম্য হারাচ্ছে, আবার সম্পাদকীয় পাতায় আর্টিকেল সেপারেটরের অনিয়ম চোখে পড়ে। একটি একক style guide অনুসরণ করলে এই সমস্যাগুলো দূর করা সম্ভব। শিরোনাম কোনো পত্রিকার প্রাণ। ‘টাইমস’ এই ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সংযমী ও আধুনিক পথে হাঁটছে। রাজনীতি ও নীতি-নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এখন তুলনামূলকভাবে তথ্যনির্ভর ও নিরপেক্ষ শিরোনাম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পাঠকের আস্থা বাড়ায়। ফিচার ও সংস্কৃতি পাতায় শব্দচয়নের নান্দনিকতা পাঠে বাড়তি আনন্দ দেয়।
তবু কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। অনেক সময় হেডলাইন দীর্ঘ হয়, যা ডিজিটাল পাঠকদের জন্য অসুবিধাজনক। কিছু শব্দচয়নে বিদেশি ক্লিশে রয়ে গেছে— ‘massive’, ‘major’, ‘key’ ইত্যাদি শব্দের ঘনঘটা শিরোনামকে জৌলুসহীন করে তোলে। বরং নির্দিষ্ট, কার্যকর এবং তথ্য-সমর্থিত শব্দ ব্যবহারে পাঠযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা দুই-ই বাড়বে।
একটি পত্রিকার ‘মেকআপ’ বা ভিজ্যুয়াল বিন্যাস কেবল সৌন্দর্যের প্রশ্ন নয়, এটি পাঠকের মনস্তত্ত্বেরও অংশ। ‘টাইমস’ এখনো এই দিকটি নিয়ে পরীক্ষামূলক অবস্থায় আছে, তবে ইতিবাচক দিক হলো—তাদের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি হচ্ছে। প্রথম পাতায় প্রধান স্টোরির সঙ্গে বড় ছবি বা ইনফোগ্রাফ ব্যবহার করা এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। তবে ভেতরের পাতাগুলোয় অগ্রাধিকার ও ভিজ্যুয়াল হায়ারার্কি সবসময় স্পষ্ট নয়। ‘Opinion’ পাতায় লেখক পরিচিতি ও হেডশট ব্যবহারে একরূপতা বজায় রাখা গেলে পত্রিকাটি আরও পেশাদার দেখাবে।
একটি সংবাদপত্রের প্রথম পাতা কখনোই কেবল খবরের সারি নয়। এটি এক ধরনের রাজনৈতিক বয়ান—এক দৃশ্যমান ভাষ্য, যা পাঠকের চিন্তা ও অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ তার প্রথম পাতাকে এমনভাবে সাজায়, যেন সেটি একটি রাজনৈতিক ক্যানভাস, যেখানে প্রতিটি রঙ, শিরোনাম ও চিত্র একত্রে বুনে চলে সংকট, উত্তেজনা ও ক্ষমতার এক দৃশ্যকাব্য।
এই পত্রিকাটির লেআউট কেবল নান্দনিক কাঠামো নয়—এটি একটি সাংবাদিকতামূলক কৌশল। কোন খবর কোথায় থাকবে, কত জায়গা দখল করবে, বা কোন ছবিটি কোন টেক্সটের পাশে বসবে—এসব সিদ্ধান্ত আসলে এক ধরণের স্থানিক রাজনীতি। টাইমস-এর পাতায় সাধারণত একটি সুসংগঠিত মডুলার গ্রিড দেখা যায়, কিন্তু সেই নিয়ম ভেঙে দেওয়া হয় যখন ‘15 army officers land in jail’ বা ‘Election Hangs’ এর মতো শিরোনাম পুরো পৃষ্ঠার অর্ধেক জায়গা জুড়ে নেয়। তখন সংবাদটি কেবল তথ্য নয়, বরং এক দৃশ্যমান ঘটনা হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্তে পাঠক বুঝে যান—এটাই আজকের বাংলাদেশ, যেখানে সংকটই রাজনীতির মূল চরিত্র।
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এই নকশা পাঠকের দৃষ্টি পরিচালনা করে। ‘Above the Fold’-এর অংশে সবচেয়ে নাটকীয় সংবাদ ও ছবি রাখার কৌশল পাঠককে কাগজ হাতে নিতে প্ররোচিত করে। এটি আসলে এক দৃশ্যমান গেটকিপিং—যেখানে সম্পাদকীয় দল নির্ধারণ করে দেয়, জাতির চেতনায় কোন বিষয়টি প্রথম আঘাত হানবে।
এই দৃশ্যকাব্যের আরেক স্তর হলো রঙ ও প্রতীকের ব্যবহার। টাইমস-এর মাস্টহেড ও শিরোনামে কালো ও লাল রঙের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। এটি নিছক নান্দনিকতা নয়; এটি এক রাজনৈতিক চিহ্ন। সাংস্কৃতিকভাবে লাল ও কালো রঙ বিপদ, সতর্কতা, বিদ্রোহ ও উত্তেজনার প্রতীক। ফলে ‘Awami League seeks route back to ballot’ শিরোনামটি যখন মুদ্রিত হয়, সেটি সংবাদকে রাজনৈতিক সংগ্রামের দৃশ্যচিহ্নে রূপ দেয়। পাঠক অবচেতনেই অনুভব করেন, দেশ এক উত্তপ্ত মোড়ে দাঁড়িয়ে।
কিন্তু টাইমস কেবল রঙে নয়, চিত্রেও রাজনীতি করে। তাদের প্রথম পাতায় ব্যবহৃত পরাবাস্তব ইলাস্ট্রেশনগুলো প্রায়ই সংবাদকে এক প্রতীকী ভাষ্যে পরিণত করে। উদাহরণস্বরূপ, ‘President’s Confined Life’ শিরোনামের ছবিতে প্রেসিডেন্টকে একটি উঁচু ও ভঙ্গুর চেয়ারে বসানো হয়েছে, যা ক্ষমতার বিচ্ছিন্নতা ও ভঙ্গুরতার রূপক। রোঁলা বার্তের মিথ তত্ত্বের আলোকে বলা যায়, এই ছবিগুলি বাস্তবতার স্তর পেরিয়ে এক পৌরাণিক স্তরে কাজ করে, যেখানে জটিল রাজনৈতিক সংকটকে একটি সহজ কিন্তু গভীর চিত্রে অনুবাদ করা হয়।
ফ্রেমিং তত্ত্ব বলছে, সংবাদ কেবল কী ঘটেছে তা নয়, বরং কিভাবে সেটি উপস্থাপিত হচ্ছে—এটাই পাঠকের ধারণা তৈরি করে। ডেইলি টাইমস ধারাবাহিকভাবে একটি সংকট ও সংঘাতকেন্দ্রিক ফ্রেম নির্মাণ করে। ‘Border on the brink’, ‘October turning deadlier for dengue’, কিংবা ‘Controversies over Ducsu polls linger’—এই শিরোনামগুলো স্থিতিশীলতা বা অগ্রগতির পরিবর্তে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনাকেই কেন্দ্র করে। এতে পাঠক ধীরে ধীরে এমন মানসিক কাঠামোয় প্রবেশ করে, যেখানে দেশ সর্বদা এক অন্তহীন অস্থিরতার মধ্যে অবস্থান করছে বলে মনে হয়।
সংবাদপত্রের প্রথম পাতার নকশা, ওয়েবসাইট, পোস্টার বা যে কোনো ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদপত্রের প্রথম পাতার মুদ্রণ সৌকর্য প্রতিনিয়ত পরীক্ষামূলক ব্যবহার এবং সংগতিপূর্ণভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিবর্তিত হয়। কারণ, একটি দৈনিক পত্রিকা প্রতিদিন নতুন নতুনরূপে পাঠকের দরবারে হাজিরা দেয়। দেশ ও সংস্কৃতি ভেদে বিভিন্ন পত্রিকার মুদ্রণ সৌকর্যও ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়। সংবাদপত্রে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং জনমানুষের রুচি পরিবর্তন বা অগ্রগিতর সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্রের চেহারারও পরিবর্তন ঘটেছে। যদিও তাড়াহুড়ো করে সংবাদপত্র প্রকাশ করতে হয়। তাই শুদ্ধতার ছাড়পত্রের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রণ সৌকর্যকেও সময়সীমার মুখোমুখি হতে হয়। গবেষক সৈয়দ লুৎফুল হক সংবাদপত্রের ডিজাইন গ্রন্থে বলেন, ‘মুদ্র্রণ প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্রের ডিজাইনের অনেক পরিবর্তন এলেও এই উপমহাদেশে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। এরা ইউরোপ-আমেরিকার সংবাদপত্রগুলোর অদক্ষ অনুকরণ করতে’। অর্থাৎ কোনো একটি সংবাদপত্রের চেহারা সেই সংবাদপত্রের মুদ্রণ প্রযুক্তির ব্যবহারিক দিকটি বুঝতে সহায়তা করে।
সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠার পৃষ্ঠাসজ্জা শুধুমাত্র খবর উপস্থাপনের একটি কাঠামো নয়, এটি পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ, সংবাদ গ্রহণযোগ্যতা এবং গণমাধ্যমের বাণিজ্যিক ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। পৃষ্ঠাসজ্জার নান্দনিক উপস্থাপনা সংবাদপত্রের ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা পাঠকের সংবাদের প্রতি আগ্রহ, তথ্য গ্রহণের পদ্ধতি এবং নির্ভরযোগ্যতা উপলব্ধির সঙ্গে জড়িত। এই কৌশল কেবল সাংবাদিকতার নয়; এটি বাজার অর্থনীতিরও অংশ। মিডিয়ার ভিড়ে টিকে থাকতে আজ পত্রিকাকে ‘চিৎকার করে ওঠা’ লাগে—এমন এক দৃশ্যমান বয়ান তৈরি করতে হয় যা পাঠকের চোখ ও মন উভয়কে আকৃষ্ট করে। সংকটের নাটকীয় উপস্থাপন তাই একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক। পাঠকও ধীরে ধীরে এই নাটকের প্রতি আসক্ত হয়ে ওঠে, যেন প্রতিদিনের সংবাদপত্রই দেশের চলমান নাট্যমঞ্চ।
বাংলাদেশের অধিকাংশ সংবাদপত্র এখনো ফ্রন্ট পেজকে সংবাদ পরিবেশনের একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবেই দেখে—যেখানে খবরের অগ্রাধিকার, কলাম বিন্যাস ও ছবি নির্বাচনের বাইরে তেমন কোনো পরীক্ষামূলক প্রয়াস দেখা যায় না। অথচ পাশের দেশ ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘The Telegraph’ প্রমাণ করেছে, প্রথম পাতাও হতে পারে এক সাহসী শিল্পমাধ্যম। তাদের ফ্রন্ট পেজে প্রায়ই দেখা যায় শিরোনামের সঙ্গে রূপকধর্মী ছবি বা গ্রাফিক্সের সংমিশ্রণ কভার পেজ, যা একসঙ্গে শিল্প, ব্যঙ্গ ও সাংবাদিকতার মিশ্রণ তৈরি করে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের পত্রিকাগুলো এখনো নকশাগত ও ভাষাগতভাবে নিরাপদ অঞ্চলে অবস্থান করছে। রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও বাণিজ্যিক ঝুঁকির ভয়ে আমাদের পত্রিকাগুলো প্রথম পাতাকে কল্পনাশক্তির ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করে না। অথচ প্রথম পাতাই হতে পারে পাঠককে চমকে দেওয়ার, ভাবাতে পারার এবং সংবাদের শক্তি দৃশ্যমান করে তোলার এক সৃজনশীল মঞ্চ।
অবশেষে বলা যায়, টাইমস তার প্রথম পাতাকে তথ্য সরবরাহের যন্ত্র নয়, বরং এক দৃশ্যমান সম্পাদকীয় হিসেবে ব্যবহার করছে। এখানে মুদ্রণ নান্দনিকতা, রঙ ও প্রতীকের চতুর প্রয়োগ সংবাদকে পরিণত করেছে এক রাজনৈতিক নাটকে, যেখানে ‘কী বলা হচ্ছে’ তার চেয়ে ‘কীভাবে দেখানো হচ্ছে’—সেটিই অধিক শক্তিশালী। প্রথম পাতার এই নান্দনিক কৌশল প্রমাণ করে, আধুনিক সাংবাদিকতায় দৃশ্যই এখন বয়ানের প্রধান শক্তি, আর সংকটই সেই দৃশ্যের নান্দনিক কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের সংবাদসংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা এক অর্থে ‘প্রথা ভাঙা’ উদ্যোগ। কারণ, এটি প্রচলিত ‘খবর-কেন্দ্রিক’ সাংবাদিকতাকে অতিক্রম করে দৃশ্য ও প্রতীকের মাধ্যমে বাস্তবতা নির্মাণের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যেখানে সংবাদপত্র কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং হয়ে উঠছে সমাজের প্রতিদিনের আত্ম-প্রতিকৃতি।
বাংলাদেশের ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে নতুন ধারার সূচনা সহজ নয়। তথাপি, ‘টাইমস’ সাহসের সঙ্গে সে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সম্পাদকীয় সততা ও ভিজ্যুয়াল সংযম যদি ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, তবে এটি অচিরেই বাংলাদেশের ইংরেজি সাংবাদিকতায় নতুন মানদণ্ড গড়ে তুলতে পারে।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


