ঝিনাইদহে জামায়াতের অফিস থেকে সরকারি সার-বীজ জব্দ

ঝিনাইদহে জামায়াতের অফিস থেকে সরকারি সার-বীজ জব্দ
Advertisement
Advertisement

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন জামায়াতের অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনার সার ও বীজ জব্দ করেছে কৃষি বিভাগ। শুক্রবার রাতে ইউনিয়নের সুরাট ইউনিয়নে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর ই নবী জানান, সংবাদ পেয়ে রাতে জামায়াতের অফিসে অভিযান চালিয়ে ৫০০ কেজি ডিওপি, ৫০০ কেজি এমওপি সার, ৮ কেজি সরিষা বীজ এবং ১৯ কেজি মসুর বীজ জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘কৃষকরা জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তালিকায় সই দিয়ে প্রণোদনার সার-বীজ উত্তোলন করেছেন। কিন্তু তাদের অফিসে প্রায় ৩০ জন কৃষকের সার-বীজ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, এরপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ১৬ অক্টোবর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অফিস থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষকের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার সার-বীজ বিতরণ করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে। কিন্তু অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, তারা সার-বীজ পাননি।

শুক্রবার রাতে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ইউনিয়ন জামায়াতের অফিসে মজুত রাখা হয়েছে কৃষকদের প্রাপ্য সার ও বীজ। পরে বঞ্চিত কৃষকরা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মজুতকৃত সার-বীজ জব্দ করেন।

আরও পড়ুন

স্থানীয় কৃষক নাসির মন্ডল বলেন, ‘সরকারি প্রণোদনার সার-বীজ ইউনিয়ন জামায়াতের অফিসে মজুত করে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে নিজেদের লোকজনকে দিচ্ছিল তারা। সরকারি তালিকায় নাম থাকা অনেক কৃষক সার-বীজ পাননি।’

ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কৃষকরা তাদের ভাগের সার-বীজ এখানে রেখে গেছে। পরে সবাইকে ভাগ করে দেওয়া হতো।’

তবে কেন কৃষকরা নিজ হাতে উত্তোলন করা সার-বীজ এখানে রেখে গেছে–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব একসঙ্গে কৃষি অফিস থেকে দেওয়া হয়েছিল, পরে ভাগ করে দেওয়া হতো।’

সদর উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন এ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য মব সৃষ্টি করেছেন। বিতরণের জন্যই এখানে সার-বীজ রাখা ছিল।’

অন্যদিকে সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বঞ্চিত কৃষকরা বিক্ষোভ করেছে। কৃষি কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তালা খুলে দিলে সার-বীজ উদ্ধার করা হয়। এখন নিজেদের দায় এড়াতে তারা অন্যের ওপর দোষ দিচ্ছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, ‘একটি দলীয় কার্যালয়ে কেন কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার সার-বীজ থাকবে? এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার-বীজ বিতরণ করতে হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad