সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তাব বাতিলের সিদ্ধান্তকে সরকারের ‘আত্মঘাতী ও নতজানু পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। বুধবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, সরকার সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা পরিবর্তন করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করেছে।
এইচআরএফবি মনে করে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কেবল অযৌক্তিকই নয়, এটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে আঘাত করেছে। পাশাপাশি এটি পেশাগত স্বাধীনতা ও চিন্তার বিকাশের অন্তরায় বলেও মনে করছে সংগঠনটি।
সরকার জানায়, সারা দেশের ২ হাজার ৫০০ ক্লাস্টারে সমসংখ্যক সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সচিব কমিটির সুপারিশে তা বাতিল করা হয়েছে। কমিটির মতে, এত অল্প সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগে কার্যকর সুফল পাওয়া যাবে না এবং এতে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।
সরকারের দাবি, বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। পরবর্তী সময়ে অর্থের সংস্থান সাপেক্ষে নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ বিবেচনা করা যেতে পারে।
এইচআরএফবি বলেছে, এই ব্যাখ্যা বাস্তব কারণ আড়াল করার প্রয়াস মাত্র। গত ২৮ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ জারির পর থেকেই কয়েকটি রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক গোষ্ঠী সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানায়। তারা একাধিক সভা, সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের হুমকি দেয়। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের আকস্মিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন স্পষ্ট করে যে গোষ্ঠীগত চাপের মুখে সরকার নীতিগত অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, সরকারের উচিত ছিল পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা বা বাজেট সংকটের অজুহাত না দেখিয়ে প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ খোঁজা। এর পরিবর্তে তারা একটি গোষ্ঠীর চাপে প্রাথমিক শিক্ষার কাঠামো থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত।
এইচআরএফবি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের বিধান পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাবিষয়ক নীতি নির্ধারণে কোনো গোষ্ঠীর অযৌক্তিক দাবিকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।


