ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার ভারী বৃষ্টিতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
রোববার সীমান্তবর্তী দুই জেলায় এ প্রাণহানি ঘটে। এতে জলশক্তি বিভাগের এক কর্মীসহ অন্তত সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা জানান, সোমবার ভোর ৩টার দিকে নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয় এবং সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সকালজুড়ে তা অব্যাহত ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া খাল ও ছড়া, পিচ্ছিল রাস্তা, বৃষ্টির কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোর চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পুলিশ, সেনাবাহিনী, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সদস্য এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অব্যাহত বৃষ্টিতে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনগুলো সতর্কতা জারি করে জনগণকে রাতে গভীর ঘুম থেকে বিরত থাকতে এবং নদী, খাল, নালা ও অন্য জলাশয়ের কাছে না যেতে বলেছে।
জম্মুর মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ রোববার সব জেলা প্রশাসনকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর পরিস্থিতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে আবহাওয়াজনিত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করেন তিনি।


