আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের নৌপথে যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার রাজধানীর ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে থেকে ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিপদমুক্ত নৌযাত্রা, জানমালের সুরক্ষা’।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌদুর্ঘটনা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, নৌযান মালিক, চালক ও যাত্রী–সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে নৌযানের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নৌপথ চিহ্নিতকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং প্রতিটি নৌযানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নৌপথে দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব।’
তিনি ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নৌপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেন।
নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া জানান, সারা দেশে পরিচালিত নৌযান শুমারির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত নৌযান শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিউল বারী বলেন, ‘ডিজিটাল নাম্বার প্লেট, অনলাইন সেবা, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা এবং এলটিএমএস সফটওয়্যার চালুর মাধ্যমে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নৌখাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


