চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে মিজানুর রহমান (৫৫) নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৈড়াতলী গ্রামের বাবু বাড়ির বাসিন্দা।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে উপজেলার কৈড়াতলী গ্রামে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে আজ সকালেই নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান ‘মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে’ মারা গেছেন। নিহতের স্বজন মামুন পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে কৈড়াতলী গ্রামের মোশফিকুর রহমান ঈমু, আসিফ ভুঁইয়া ও কালু মিয়ার চক্র মিজানের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের যোগসাজশেই পুলিশ তাকে আটক করে মানসিক নির্যাতন করেছে। কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়। এই অপবাদ সহ্য করতে না পেরেই তিনি মারা গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিজান প্রবাস থেকে এসে নিয়মিত বাড়িতে থাকতেন।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, সকালে পাটোয়ারী বাড়ি থেকে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। দ্রুত তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


