মুন্সীগঞ্জের একটি পরিবারের আদরের পোষা বিড়াল ‘ক্যান্ডি’কে নিজেদের সঙ্গে করে ইতালি নেওয়ার চেষ্টা এবারের মতো সফল হয়নি। চার বছর ধরে পরিবারের সদস্যের মতো বড় করা এই প্রাণীটিকে সঙ্গে নিতে নানা জটিল প্রক্রিয়া পেরিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয় পরিবারটির।
বুধবার রাত সোয়া ৩টায় কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে রোমের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল পোষা বিড়াল ক্যান্ডির। বিশেষ খাঁচা, বিমানের টিকিট, সরকারি অনুমতি, পোষা প্রাণীর পাসপোর্ট সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেই স্বপ্নীল হাসান শিথিলের সঙ্গে বিদেশ যাত্রা শুরু করে সে। তবে ঢাকা বিমানবন্দরে ক্যান্ডিকে আপাতত যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মুন্সীগঞ্জের মানিকপুর এলাকার রিক্তা বেগম ২০২১ সালে তার ছেলে স্বপ্নীলের জন্য ১৫ হাজার টাকা দিয়ে অনলাইন থেকে কিনেছিলেন বিড়ালছানা ক্যান্ডিকে। তখন স্বপ্নীল স্কুলে পড়ত। সেই ছোট বিড়ালছানাই এখন পুরো পরিবারটির আবেগের কেন্দ্রবিন্দু।
স্বপ্নীল এবার এইচএসসি পাস করেছেন, আর তার বাব আব্দুল হাই কর্মসূত্রে ইতালি থাকেন। তিনি কয়েক মাস আগে দেশে এসে ‘ক্যান্ডি’র মায়ায় পড়ে যান। স্বপ্নীলের আবেগের কথা ভেবে তিনিও ক্যান্ডিকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দেন। বিমানের নিয়ম অনুযায়ী, ক্যান্ডিকে একটি বিশেষ খাঁচায় (পেট ক্যারিয়ার) করে হাতব্যাগের মতো বহন করা হয়। বিড়ালটির ওজন প্রায় ৬ কেজি। বিমানভাড়া ৩৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
স্বপ্নীলের পরিবার সেখানে স্থায়ীভাবে যাওয়ায় তার প্রিয় ক্যান্ডিকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
স্বপ্নীলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, ক্যান্ডিকে ছাড়া ঘরটা খুব ফাঁকা লাগে। ওকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিমানবন্দরে ‘বিড়ালের খাঁচা অনুপযুক্ত’ হওয়ায় তাকে নিয়ে আসার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে তাকে আত্মীয়ের কাছে রেখে এসেছি। কিছুদিন পরে চাচা ইতালি আসবেন। তখন তিনি সঙ্গে নিয়ে আসবেন।


