রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এক জেলের জালে ৩৫ কেজি ওজনের এক বিশাল আকৃতির কাতল মাছ ধরা পড়েছে। রোববার ভোরে নদীর কলাবাগান এলাকায় মাছটি ধরা পড়ে। পরে দৌলতদিয়া মৎস্য আড়তে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছটি ৭৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কলাবাগান এলাকায় পদ্মা নদীতে সঙ্গীদের নিয়ে জাল ফেলেন জেলে জমির হালদার। রাতের শেষ ভাগে ভোরের দিকে তাদের জালে এক জোরালো টান পড়ে। টান দেখে জেলেরা বুঝতে পারেন বড় কোনো মাছ আটকেছে। অত্যন্ত সাবধানে জাল ওপরে তুলতেই দেখা মেলে রূপালি রঙের এক বিশাল কাতল মাছের।
সকালে মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া মৎস্য আড়তে নিয়ে আসা হলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। সেখানে উন্মুক্ত নিলামে তোলা হলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা দরে মোট ৭০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন।
পরবর্তীতে তিনি মাছটির ছবি ও বিবরণ দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত খুলনার এক শৌখিন ক্রেতার কাছে প্রতি কেজি ২ হাজার ১০০ টাকা দরে মোট ৭৩ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করতে সক্ষম হন শাহজাহান শেখ। এতে তিনি তিন হাজার টাকা লাভ করেন।
মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ বলেন, ‘পদ্মা নদীর তাজা মিষ্টি পানির কাতল মাছের চাহিদা সবসময়ই বাজারে আকাশচুম্বী। আর ৩৫ কেজি ওজনের এত বড় কাতল মাছ তো সচরাচর দেখাই যায় না। তাই বেশি দাম হওয়া সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে মাছটি কিনেছিলাম। পদ্মার এমন বড় মাছ সংগ্রহের চেষ্টা আমি সবসময়ই করি, কারণ এগুলো দ্রুত ভালো দামে বিক্রি হয়ে যায়।’
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব উল হক বলেন, ‘পদ্মা নদীতে মাঝে-মধ্যেই এখন বড় আকারের কাতল, বোয়াল, পাঙাশসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। নদীতে মাছের নিয়মিত প্রজনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার কারণেই এখন এমন বড় বড় মাছের দেখা মিলছে। এতে একদিকে জেলেরা যেমন ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে পদ্মার সুস্বাদু মাছের যে ঐতিহ্য ও সুনাম, তাও বজায় থাকছে।’


