দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘বর্গা শিক্ষক’ প্রথা বন্ধ, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ, পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এসব দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় মিছিল ও ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পিসিপির ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হ্লামংচিং মারমা সমাবেশ সঞ্চালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমা। স্বাগত বক্তব্য দেন পিসিপির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নেবাই অং খুমী।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি অনিক কুমার দাশ, পিসিপির ঢাকা পলিটেকনিক শাখার সহসভাপতি ক্যারি চাকমা, গারো স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (গাসু) ঢাকা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বগত ম্রং, পিসিপির ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি কনেজ চাকমা এবং আদিবাসী যুব ফোরামের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক তুম্পা হাজং।
অনিক কুমার দাশ বলেন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের ৬৪ বছর পরও দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষা ক্রমে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হওয়ায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানেরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা আরও নাজুক উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ ও দুর্নীতি পাহাড়ের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ক্যারি চাকমা বলেন, বিভিন্ন সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে বাণিজ্যিকীকরণ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে আদিবাসীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটার বিধান থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়ছে। অধিকার আদায়ে ছাত্রসমাজ ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবে বলে জানান তিনি।
স্বগত ম্রং বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে আদিবাসীরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য সমতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
সমাবেশে সৃজন মৃ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়বে, যা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
কনেজ চাকমা বলেন, বৈষম্যহীন ও গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হলেও সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে আগে প্রচলিত ৫ শতাংশ কোটা কমিয়ে দেওয়ায় আদিবাসীরা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নির্বাচন না হওয়ায় অনির্বাচিত পরিষদগুলো শিক্ষা খাতে যথেচ্ছ হস্তক্ষেপ করছে। সমাবেশ থেকে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন এবং চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
তুম্পা হাজং বলেন, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার কথা কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তিনি শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ছাত্রসমাবেশ শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা মিছিল করেন।


