শেখ হাসিনার আমলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন বর্বরোচিত হামলার শিকার হননি বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
শনিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলেও আমরা তার গদিকে চ্যালেঞ্জ করে আন্দোলন করেছিলাম, তখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন বর্বরোচিত হামলার শিকার হইনি। এটা একটা টার্গেট মিশন ছিল, আমাদের টার্গেট করে অন্যদের মেসেজ দেওয়ার জন্য।’
নিজের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে নুরুল হক নুর সতর্ক করেছেন, এ ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক নেতারা এ ধরনের হামলার টার্গেট হতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘হামলার ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। যদি তাদের সম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে এ হামলা চালাল কারা।’ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা ও চাকরিচ্যুতির দাবি তোলেন তিনি।
নুর আরও বলেন, ‘পাহাড়ে চলছে অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট দেখা দেবে।’
তিনি সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের একতরফা নির্বাচনের কারণে জবাবদিহির উদাহরণ টেনে বর্তমান সরকারকে সতর্ক করেন এবং বলেন, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হলে সরকারের প্রতিনিধিরাও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন।
নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের বিতর্কিত নির্বাচনের পর সাবেক নির্বাচন কমিশনারের গলায় জুতার মালা পড়েছে, এক প্রধান বিচারপতিও দেশ ছেড়েছেন।’ তাই তার ওপর হামলার বিচার না হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারকে সহযোগিতা করি; আমরা সুবিধাভোগী নই, কোনো ভাগবাটোয়ারার অংশীদার নই। এখন দেশে বিশৃঙ্খলা, নির্বাচন নিয়ে বিভাজন ও পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে; যদি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন না হয়, দেশ পুনরায় সংকটে পড়বে।’
নুর অভিযোগ করে বলেন, ‘সমঝোতার নির্বাচনে যাদের ইশারা দেওয়া হবে, তারাই নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাবে; যাদের সিগন্যাল দেওয়া হবে না, তাদের ওপর হামলা করে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’
তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে তার ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গত ২৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় তার মাথায় আঘাত লাগা এবং নাকের হাড় ভেঙে যাওয়াসহ গুরুতর অবস্থা দেখা দেয়।
প্রথমে তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং ঢামেকে প্রায় ১৮ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়ি ফেরেন। দেশে চিকিৎসা নিয়ে কিছু শারীরিক জটিলতা রয়ে যাওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে ২২ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যান। সেখানে মোট ১২ দিন চিকিৎসা গ্রহণের পর শনিবার দেশে ফেরেন।
বিমানবন্দরে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে স্বাগত জানান।


