বাংলাদেশি আলোকচিত্রী জিএমবি আকাশের আলোকচিত্র নিয়ে আয়োজিত ‘ইএমবিইআর’ শীর্ষক প্রদর্শনী মালদ্বীপের গ্যালারি ৩৫০-এ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রদর্শনীতে সাধারণ মানুষের জীবন, মানবিক মর্যাদা, সহনশীলতা, সম্পর্ক, আশা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গ অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও শ্রীলঙ্কার কূটনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মালদ্বীপের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এবং মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
গ্যালারি ৩৫০-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে জিএমবি আকাশের বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, পাকিস্তানসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ধারণ করা আলোকচিত্রের একটি নির্বাচিত সংগ্রহ প্রদর্শিত হচ্ছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জিএমবি আকাশ এমন সব মানুষ ও জনগোষ্ঠীর জীবন ও গল্প আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, যাদের কথা অনেক সময় মূলধারার বিশ্বের দৃষ্টি ও আলোচনার বাইরে থেকে যায়। তার আলোকচিত্রে শুধু দারিদ্র্য বা দুর্দশার চিত্র নয়; বরং মানুষের মর্যাদা, সহনশীলতা, সম্পর্ক, হাস্যরস, আশা এবং সাধারণ জীবনের অন্তর্নিহিত শক্তি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ইএমবিইআর’ কেবল একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মানুষের পারস্পরিক পরিচিতি, বোঝাপড়া ও মানবিক সংযোগ আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি ও শিল্প বাংলাদেশের জনকূটনীতি ও সফট পাওয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কোনো দেশ তার পরিচয়, মূল্যবোধ, সমাজ ও জীবনযাত্রার গল্প শুধু প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের অনুভূতি ও মানবিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারে।
হাইকমিশনার আরও বলেন, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তখনই আরও শক্তিশালী হয়, যখন দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, বোঝাপড়া, আস্থা ও মানবিক সংযোগ গড়ে ওঠে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে ইতিহাস, ভারত মহাসাগর, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, শিক্ষা, বাণিজ্য, পর্যটন, শ্রমবাজার এবং ক্রমবর্ধমান সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন তৈরি হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রী ও শিল্পী জিএমবি আকাশ তার আলোকচিত্রের পেছনে থাকা মানবিক গল্প এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন ও মর্যাদাকে স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও গভীর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন আরও অনেক শিল্প, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে।
প্রদর্শনীটি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মালদ্বীপের গ্যালারি ৩৫০-এ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


