জবাবদিহিমূলক সুশাসনে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি: টিআইবি

জবাবদিহিমূলক সুশাসনে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি: টিআইবি
Advertisement
Advertisement

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষায় জবাবদিহিমূলক সুশাসন নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে নির্বাহী বিভাগের অতিরিক্ত ক্ষমতা কমাতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ ও সরকারি প্রভাবমুক্ত করতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তরুণদের নেতৃত্বে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগে গণতন্ত্রের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে রাজনীতি, নির্বাচন ও সংসদ অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্ম, পুরুষতন্ত্র ও সংখ্যাগরিষ্ঠতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের পথে বড় বাধা। ‘জয়ী দল সবকিছু পাবে’ এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগকে অধিক ক্ষমতা দেওয়া অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করা হচ্ছে। অন্যদিকে জবাবদিহি নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন করার উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে অথবা এমনভাবে আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে না পারে।’

মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও তথ্য কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ আইন, সাইবার সুরক্ষা আইন ও এসআরবি আইন ঢেলে সাজাতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে করা অধ্যাদেশগুলো অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের কাছে জিম্মি থাকতে পারে না। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষা ধারণ করে আত্মশুদ্ধি জরুরি।’

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ক্ষমতার উৎস এ দেশের জনগণ। দীর্ঘ স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে জনগণের রায় ও সমর্থনে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। বিএনপি সরকার বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় মদদে গুম ও খুন বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়। এটি আপামর জনসাধারণের। রাষ্ট্র ও ক্ষমতার প্রকৃত মালিক জনগণ। জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। যুক্তিসংগত সমালোচনা ও পরামর্শ গ্রহণেও সরকার প্রস্তুত।’

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা বিবেচনা করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রয়োজনে সাংবিধানিক পরিবর্তনের পাশাপাশি চিন্তা ও মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। দেশের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘বর্তমান সংসদের প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী। ফলে জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বেশি বিল পাস হচ্ছে। গণতন্ত্র জনগণের বদলে ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা সম্ভব নয়। জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো ছাত্র-শ্রমিক-জনতা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। অথচ ঋণখেলাপিদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।’

রাজনীতিবিদ ও চিকিৎসক তাসনিম জারা বলেন, ‘নির্বাচন পাঁচ বছর পরপর একটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। জবাবদিহি নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠান কারও নিয়ন্ত্রণে থাকলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুসংগঠিত অপপ্রচার, বট পরিচালনা, রাজনৈতিক বুলিং ও ডিজিটাল সহিংসতা সংঘবদ্ধ অপরাধ। এভাবে তরুণদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে, সচেতন থাকতে হবে।’

আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা গ্রহণ, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন ও সরকারি চাকরির ভাইভা নম্বরে বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad