দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে বদলে যাচ্ছে মহম্মদপুর উপজেলার মানচিত্র। উপজেলার চুড়ারগাতি, চরগয়াশপুর, কাশীপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর, রুইজানী, গোপালনগর, জাঙ্গালীয়া, ধুপুড়িয়া, রায়পাশা, চরপাচুড়িয়া, হরেকৃষ্ণপুর, আড়মাঝি, ঝামা, দেউলি এবং কালীশংকরপুর গ্রাম এই ভাঙনের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে একাধিকবার বাড়িঘর সরাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন এই অঞ্চলের অনেক মানুষ। বর্ষা মৌসুম আসলেই আতঙ্কে থাকেন নদী তীরবর্তী শত শত পরিবার।
অন্যদিকে, গোপালনগর থেকে প্রায় পাল্লা গ্রাম পর্যন্ত এবং আড়মাঝি, হরেকৃষ্ণপুর ও ঝামা এলাকায় নদীর মাঝ বরাবর সুবিশাল চর জেগে ওঠায় স্রোতপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়ে প্রবল বেগে নদী তীরে ঢেউ আছড়ে পড়ায় ভাঙন বাড়ায় তীরবর্তী গ্রামগুলো ক্রমেই নিশ্চিহ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে চুড়ারগাতি, চরগয়াশপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর, জাঙ্গালীয়া, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা এবং দেউলী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি দেখা দিয়েছে। শুধু ঘরবাড়ি নয়; রাক্ষুসে মধুমতি কয়েকশ একর ফসলি জমি, বৃক্ষরাজি, দোকান-পাট ও রাস্তাঘাট গিলে খেয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে স্কুল, মসজিদ, মন্দির ও গোরস্তান। প্রতিবছরই ভাঙছে মধুমতি পাড়ের মানুষের ঘরবাড়ি-স্বপ্ন। ভাঙছে নদী, কাঁদছে মানুষ।

টানা বৃষ্টি এবং নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে গত এক মাস ধরে মাগুরার মহম্মদপুরে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মধুমতি নদী। তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। জোয়ারের পানিতে ভাটার টান পড়লে ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন নদী তীরবর্তী পরিবারগুলো। ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন নদীপাড়ের শত শত পরিবার। কেউ হারিয়েছেন বসতভিটা, কেউ ফসলি জমি, আবার অনেক পরিবারকে বারবার ঘর সরিয়ে নিতে হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে।
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও হাজার হাজার একর আবাদি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন নদী তীরবর্তী মানুষ।
জিও ব্যাগ ফেলে নদী ভাঙনের সমাধান সম্ভব নয়। তাই মধুমতি পাড়ের বাসিন্দারা চান নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ।
আরও পড়ুন: জাজিরায় নদীভাঙনে দিশেহারা পদ্মাপাড়ের মানুষ
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ‘ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এবং নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ কর্মকার বলেন, ‘আমরা ঝামা ও হরেকৃষ্ণপুর এলাকায় জিও ব্যাগের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় ভাঙন রোধের চেষ্টা করছি। জনগণের এই দুর্ভোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।’


