সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল সাতক্ষীরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরের বাসিন্দারা।
সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা মরিয়মের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিল এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে পুনর্নিবাচনের দাবি জানান। একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করেন তারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন- নওয়াবেকী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু, নূরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবু ইউসুফ, বিএনপি নেতা আবুল কালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এর আগে রোববার বিকালে শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও গাড়ি চালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
এরইমধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে যথাক্রমে চার দিন ও একদিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। অন্য আসামি ওবায়দুর রহমান পলাতক রয়েছেন।


