গুম, খুনের ৩ মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে

গুম, খুনের ৩ মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে
ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছে গ্রেপ্তার সেনা কর্তকর্তাদের। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা তিন মামলার শুনানিতে অংশ নিতে হাজির করা হয়েছে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে।

রোববার সকালে তাদের ঢাকা সেনানিবাসে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ, রোববার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

এর মধ্যে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া, রাজধানীর রামপুরায় ২৮ হত্যার ঘটনায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চারজন এবং টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুমের অপর মামলায় শেখ হাসিনা ও ১০ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়েও আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন

জেআইসিতে গুমের ঘটনায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। আর রামপুরায় হত্যাকাণ্ড ও টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় অভিযোগের বিরুদ্ধে আজ আসামিপক্ষ শুনানি করবে। শুনানির জন্যই এ তিন মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা সেনা কর্মকর্তা। এই তালিকায় আছেন কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল মো. কামরুল হাসান, কর্নেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. সারোয়ার বিন কাশেম, লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল ও লেফটেনেন্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

পলাতক সাত আসামি হলেন পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মো. হারুন অর-রশিদ এবং লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. খায়রুল ইসলাম।

এছাড়া, জেআইসিতে গুমের ঘটনায় আসামি ১৩ জন। তারা হলেন শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী। এদের মধ্যে শেষোক্ত তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই ৩০ জনের মধ্যে হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকী দুটি মামলায়ই আসামি। ফলে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮।

রামপুরায় হত্যাকাণ্ডের মামলার চার আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, ঘটনার সময় বিজিবিতে ছিলেন। বাকি দুই আসামি, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান পলাতক।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর