সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তার মামা ওবায়দুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন ওবায়দুর রহমানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি আদালতকে বলেন, মরিয়মের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখতে হবে। এ ছাড়া গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে এবং তাকে নিয়ে বিভিন্ন হোটেলে যাতায়াতের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করার জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে গত বুধবার ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় সেদিন রাতেই গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন রাতেই মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। বিষয়গুলো মরিয়ম তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।
যদিও বুধবার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বাদীপক্ষ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে।
মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের বিষয়ে আদালতের আদেশ ও পরবর্তী কার্যক্রমের ওপরই এখন নির্ভর করছে মামলাটির পরবর্তী গতিপথ।


