সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ভারতে ১৫ লাখ ৪ হাজার ১৭০ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। ভোমরা কাস্টমস হাউসের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই রপ্তানির আর্থিক মূল্য ১ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপড়েনে আমদানির সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে দেশীয় পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।
ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার জানান, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। রপ্তানি বাণিজ্য বহুমুখীকরণের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে উপযুক্ত কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসারে ভোমরা স্থলবন্দর দেশের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভোমরা কাস্টমস হাউসের সহকারী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ ভোমরাসহ অন্যান্য স্থলবন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারে ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত পণ্য খালাসের কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। আমদানি পণ্যের পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য ছাড়করণের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা ও চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে ভারতের বাজারে দেশীয় পণ্যের বর্ধিত প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ অর্জন। ভারতের বাজারে রপ্তানি পণ্যের গুরুত্ব বাড়াতে দেশের শীর্ষ রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা ভোমরা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী। আগে এই বন্দর দিয়ে জনপ্রিয় শিশুখাদ্য, তৈরি পোশাক ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন প্রকার পণ্যসামগ্রী নিয়মিত রপ্তানি হলেও বর্তমানে তা অনেকাংশে কমে গেছে।


