ঢাবিতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে মুখোমুখি ডাকসু-বামদল

ঢাবিতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে মুখোমুখি ডাকসু-বামদল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য চত্বরে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিক্ষোভে সংহতি জানান বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

অভিযান চালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে অবৈধ দোকান, ভাসমান মানুষ এবং ভবঘুরেদের সরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন উচ্ছেদ হওয়া একদল হকার। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল বেশ কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। এ ধরনের অভিযানকে অমানবিক বলে অভিহিত করছেন বামদলগুলোর নেতারা।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নেতারা প্রক্টরের কার্যালয়ের কাছে একটি পাল্টা সমাবেশ করেছে। তারা বামদল ও হকারদের সমাবেশের প্রতিবাদ জানান।

শনিবার রাতভর এসব নিয়েই উত্তেজিত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

রাতেই সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে বৈঠকে ডাকসু নেতারা উচ্ছেদ হওয়া হকারদের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা এই প্রতিবাদের ভিডিও ফুটেজও জমা দেন।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ.বি. জুবায়ের বলেন, ‘বহিরাগতরা প্রতিনিয়ত আমাদের ক্যাম্পাসে অবাধে প্রবেশ করছে। অনেকে মেট্রোরেলের নিচে বা কাছাকাছি এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। কেউ কেউ মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং রাতে তারা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও করে।’

আরও পড়ুন

জুবায়েরের দাবি, ঢাবি এলাকায় ভবঘুরেদের আশ্রয় দেওয়ায় মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্র সক্রিয় থাকার সুযোগ পায়।

সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হবে। ক্যাম্পাসে কোনো অবৈধ দোকান থাকতে পারে না। হকারদের পক্ষে মিছিলে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দোকান উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে। কয়েকজন ব্যক্তি বা সাবেক শিক্ষার্থীর বিরোধিতার কারণে তাদের দাবি আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’

এই অভিযানে ঢাবিকে সহায়তা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এবং গ্রিন ফিউচার নামক একটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা।

এ বিষয়ে হকারদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাবি শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঢাবির উচিত শিক্ষার্থীদের মানবিক হতে শেখানো, কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের নামে আজ যা করা হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য।’

‘দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে থাকা মানুষ ও হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা যায় না; এতে কোনো ইতিবাচক ফল আসবে না।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর